ঢাকায় ৯ দিনে ৩০০ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, March 08, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকটের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা বিমানবন্দর) থেকে মোট ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা সঙ্কটে ঐ অঞ্চলের ৭টি দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি এবং ৮ মার্চ ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
আকাশসীমা বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে পরিচালিত ৮টি এয়ারলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি এবং কুয়েতভিত্তিক জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক এয়ার আরাবিয়ার ৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ঐদিন এই এয়ারলাইনের সর্বোচ্চ সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
বাহরাইনভিত্তিক গালফ এয়ারের ২টি এবং কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদভিত্তিক সৌদিয়া এয়ারলাইন্সও ২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
৮ মার্চ মোট ২৬টি ফ্লাইট বাতিল হলে হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ যাবত মোট ৩০০টি ফ্লাইট করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও পারিবারিক কারণে হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ঐ অঞ্চলে ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। ফলে আকাশপথে যাতায়াত ব্যাহত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থির থাকায় কবে থেকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে এয়ারলাইনগুলো এখনো কিছুই জানায়নি। যাত্রীদের ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন ও অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।