এয়ারবাস থেকে ৯৫টি উড়োজাহাজ কিনবে এয়ার চায়না, শেনজেন ও হাইনান
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Saturday, July 18, 2026
ছবি: সংগৃহীত
চীনের তিনটি প্রধান এয়ারলাইনস—এয়ার চায়না, শেনজেন এয়ারলাইনস ও হাইনান এয়ারলাইনস—ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে মোট ৯৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তিগুলোর তালিকামূল্য প্রায় ১৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১,৭৮০ কোটি ডলার)। গত ১৭ জুলাই সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সবচেয়ে বড় অর্ডারটি দিয়েছে এয়ার চায়না ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান শেনজেন এয়ারলাইনস। তারা যৌথভাবে ৫৫টি উড়োজাহাজ কিনবে, যার তালিকামূল্য প্রায় ১২.৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এয়ার চায়না কিনবে ১৫টি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ, আর শেনজেন এয়ারলাইনস কিনবে এ৩২০নিও পরিবারের ৪০টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
অন্যদিকে, হাইনান এয়ারলাইনস পৃথকভাবে এ৩২০নিও পরিবারের ৪০টি উড়োজাহাজ কিনছে। এই চুক্তির সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার।
এয়ার চায়নার ১৫টি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো তাদের দূরপাল্লার বহরকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চাহিদা পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক রুট সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
বর্তমানে এয়ার চায়নার বহরে এ৩৫০-৯০০ ছাড়াও এয়ারবাস এ৩৩০ এবং বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন সংযোজনের মাধ্যমে শুধু বহরের সক্ষমতাই বাড়বে না, ধাপে ধাপে পুরোনো উড়োজাহাজও প্রতিস্থাপন করা হবে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিদ্যমান যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতার তুলনায় নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে এয়ার চায়না গ্রুপের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে পুরোনো উড়োজাহাজ অবসরে যাওয়ায় প্রকৃত সক্ষমতা বৃদ্ধি কিছুটা কম হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আর্থিক চাপের মধ্যেই এই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার চায়না। সংস্থাটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তাদের নিট লোকসান সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
শেনজেন ও হাইনান এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ
শেনজেন এয়ারলাইনসের ৪০টি এ৩২০নিও উড়োজাহাজ ২০২৯ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় সংস্থাটির মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
এয়ার চায়নার সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন শেনজেন এয়ারলাইনস মূলত দেশীয় ও আঞ্চলিক রুটে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ পরিচালনা করে। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন দেশীয় বাজারে সম্প্রসারণ এবং পুরোনো বহর প্রতিস্থাপনে সহায়ক হবে।
হাইনান এয়ারলাইনসের অর্ডার করা ৪০টি এ৩২০নিও উড়োজাহাজ ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
এয়ারবাসের প্রতি চীনা এয়ারলাইনসের ঝোঁক
সাম্প্রতিক অর্ডারগুলো চীনা এয়ারলাইনসগুলোর এয়ারবাসমুখী কৌশলের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরছে।
গত জুনে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ২৫টি এ৩৩০নিও ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দেয়, যার তালিকামূল্য ছিল প্রায় ৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে মার্চে সংস্থাটি এ৩২০নিও পরিবারের ১০১টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১৫.৮ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া গত এপ্রিল মাসে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান শিয়ামেন এয়ারলাইনস যৌথভাবে ১৩৭টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে, যার তালিকামূল্য ছিল প্রায় ২১.৪ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্ডার এয়ারবাসের দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কৌশলে চীনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, জ্বালানি সাশ্রয়, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদা মোকাবিলায় চীনা এয়ারলাইনসগুলো ব্যাপক পরিসরে বহর আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: অ্যারোস্পেস গ্লোবাল