ফ্লোরিডায় নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে ইউএসএফ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, May 06, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নৃশংসভাবে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করবে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিহত শিক্ষার্থীরা জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি — উভয়েরই বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। আগামী ৭ থেকে ১০ মে অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁদেরও সম্মানিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, "প্রতিটি অনুষ্ঠানের শুরুতে নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে, যাঁরা গত মাসে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।"
৮ মে অনুষ্ঠিতব্য ডক্টরাল সমাবর্তনে দুটি শূন্য আসনে সনদসহ আনুষ্ঠানিক পোশাক সাজিয়ে রাখা হবে তাঁদের প্রতীকী উপস্থিতির স্মারক হিসেবে। এ বছর মোট ৩৫৩ জন ডক্টরাল ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে তাঁরাও অন্তর্ভুক্ত।
গত ১৬ এপ্রিল দুজনকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর পরিবার ও সহপাঠীরা তাঁদের নিখোঁজ বলে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পরবর্তী দিনগুলোতে ট্যামপার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুদিন পর কাছাকাছি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে পাওয়া মানবদেহের অবশেষ বৃষ্টির বলে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে দ্বি-পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় এবং শিক্ষা মহলে গভীর শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর এই সপ্তাহের শুরুতে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিস্টির মরদেহ এখনো ফ্লোরিডার একটি ফিউনারেল হোমে রয়েছে। ৭ মে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে ৬ মে ফ্লোরিডায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং ওয়াশিংটনের দূতাবাস মরদেহ প্রত্যাবাসনের সার্বিক প্রক্রিয়া সমন্বয় করছে।