জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় তুঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়া
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, March 26, 2026
ফাইল ছবি
জেট ফুয়েলের দাম ৮০ শতাংশ বাড়ার পর অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়া ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে দেয়। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৫-২০২ টাকা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের পূর্ব দাম ছিল ০.৭৩৮৪ ডলার। সেখান থেকে বেড়ে নতুন দাম ১.৩২১৬ ডলার।
এর প্রভাবে কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া ১২০০ টাকা বেড়েছে। আর যশোর ও রাজশাহী রুটে এক হাজার টাকা ভাড়া বেড়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, “যদি ভাড়া বৃদ্ধি পায়, আমি বলব যে এটি প্রেরণাহীনতার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধুমাত্র এয়ারলাইন্সকে প্রভাবিত করবে না; বাংলাদেশের পর্যটন খাত এবং হোটেল শিল্পকেও সরাসরি প্রভাবিত করবে। সব দিক বিবেচনা করে ভাড়া যৌক্তিকভাবে পুনঃনির্ধারণ করা উচিত।”
বাংলাদেশ এভিয়েশন অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মফিজুর রহমান বলেন, “অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ইতিমধ্যেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আমরা দেখছি যে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হচ্ছে।”
তিনি বিইআরসির সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করলেও আমাদের যুক্তি বিবেচনা করা হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আশঙ্কায় আছেন এভিয়েশন অপারেটররা। পাকিস্তান ও মালদ্বীপের মতো দেশে যেখানে জেট ফুয়েলের দাম যথাক্রমে ২৪% এবং ১৮% বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশে এই ফুয়েলের দাম ৩ দশমিক ৩৩ গুন কিংবা ৪ দশমিক ৪৪ গুন বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রাইভেট এয়ারলাইনগুলোর হুমকির মুখে পড়েছে।
অন্তবর্তী সরকারের সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম (অবঃ) গণমাধ্যমে বলেন, “যদি যাত্রীদের আয় বৃদ্ধি না পায়, দীর্ঘমেয়াদে এয়ারলাইনগুলোকে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।”
খাতভিত্তিক সূত্র জানায়, বিমান ভাড়া বাড়ায় যাত্রী সংখ্যা আরও কমবে। ফলে পর্যটন ও হোটেল ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব পড়বে। অপারেটররা নতুন দামের জরুরি পুনঃসমীক্ষা দাবি করছেন।