Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

উত্তরা গণভবন: ইতিহাসের পথে এক রাজকীয় দিন

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Thursday, March 26, 2026
উত্তরা গণভবন: ইতিহাসের পথে এক রাজকীয় দিন

ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো ফুটতেই আমি রওনা দিলাম উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক শহর নাটোর-এর উদ্দেশ্যে। বহুদিনের ইচ্ছা—চোখে দেখবো বিখ্যাত উত্তরা গণভবন, যার পুরোনো নাম দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি। ইতিহাসের গন্ধ মেখে থাকা এই রাজপ্রাসাদ যেন সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষী।


ঢাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যখন নাটোর পৌঁছালাম, তখন সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর। শহর থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ—সবুজ গাছপালায় ঘেরা এক বিশাল প্রাচীর চোখে পড়তেই বুঝলাম, আমি চলে এসেছি সেই কাঙ্ক্ষিত স্থানে।


প্রবেশের মুহূর্ত

প্রবেশদ্বারের পিরামিড আকৃতির উঁচু গেটটি যেন এক রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাল। উপরে স্থাপিত পুরনো ঘড়িটি এখনও সময়ের গল্প বলে চলে। ভেতরে ঢুকতেই চারদিকে শান্ত পরিবেশ, বিশাল প্রাঙ্গণ আর পুরনো বৃক্ষরাজি—মনে হলো যেন অন্য এক যুগে চলে এসেছি।


হালকা বাতাসে গাছের পাতার মর্মর শব্দ, দূরে পাখির ডাক—সব মিলিয়ে এক অপার্থিব অনুভূতি।


রাজপ্রাসাদের ভেতরে

মূল প্রাসাদের দিকে এগোতেই চোখে পড়ে তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী—মোগল ও ইউরোপীয় নকশার এক অপূর্ব মিশ্রণ। ভেতরে ঢুকে বিশাল হলরুমটি দেখে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। উঁচু গম্বুজ, ঝাড়বাতি, আর প্রাচীন আসবাবপত্র—সবকিছু যেন রাজকীয় জীবনের নিঃশব্দ গল্প শোনাচ্ছে।


এক কোণে রাখা রাজসিংহাসনটির দিকে তাকিয়ে কল্পনায় ভেসে উঠলো সেই সময়ের রাজা-মহারাজাদের জীবনযাপন। পাশের ঘরে রাজার শয়নকক্ষ—সেখানে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে সেই পুরনো খাট, যা ইতিহাসের স্পর্শ বহন করছে।


ইতালীয় বাগানের মায়া

প্রাসাদের পেছনের বাগানটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। ইতালীয় নকশায় তৈরি এই বাগানে রয়েছে মার্বেলের ভাস্কর্য, ফোয়ারা আর ছায়াঘেরা পথ। এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা মার্বেলের নারীমূর্তিটি যেন নিঃশব্দে অতীতের গল্প বলে যাচ্ছে।


এখানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। চারপাশের সৌন্দর্য আর নীরবতা মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিল।


পুকুর আর প্রকৃতির ছোঁয়া

গণভবনের চারপাশে ছড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি পুকুর—গোলপুকুর, পদ্মপুকুর, শ্যামসাগর। যদিও অনেকটাই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও তাদের মাঝে এখনও লুকিয়ে আছে প্রাচীন ঐতিহ্যের ছাপ। পুরোনো গাছপালা, যেমন রাজ-অশোক, পারিজাত, কর্পূর—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন একটি জীবন্ত উদ্ভিদ উদ্যান।


সংগ্রহশালায় ইতিহাসের স্পর্শ

ভেতরের সংগ্রহশালায় ঢুকে যেন ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলাম। সেখানে রাখা রয়েছে রাজাদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, মুকুট, ডিনার সেট, এমনকি ব্যক্তিগত চিঠিপত্রও। প্রতিটি জিনিসই যেন অতীতের একেকটি গল্প।


দিনের শেষে অনুভূতি

বিকেলের সোনালি আলোয় যখন প্রাসাদের দিকে শেষবার তাকালাম, তখন মনে হলো—এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ।


ফিরতি পথে মনে হচ্ছিল, এই ভ্রমণ শুধু চোখের আনন্দ নয়, মনেরও এক গভীর তৃপ্তি।


ভ্রমণ টিপস

আগে থেকেই জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যান।

সকালবেলা গেলে ভিড় কম থাকে।

ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না ।

নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা খেতে ভুলবেন না।


সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন

রাণী ভবানী রাজবাড়ী।

পুঠিয়া রাজবাড়ি।

চলনবিল।


দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি ভ্রমণ মানে শুধু একটি স্থান দেখা নয়—এটি ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News