জ্বালানি সংকটে ফ্লাইট কমাচ্ছে ভিয়েতনামের একাধিক এয়ারলাইন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, March 27, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় এপ্রিল থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করছে ভিয়েতনামের একাধিক এয়ারলাইন।
শুক্রবার ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথির বরাত এ তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ন্যান দান থেকে জানা গেছে, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ১ এপ্রিল থেকে ৭টি অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট বন্ধ করে দিবে। যদি জেট ফুয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৬০–২০০ ডলারে উঠে যায় তাহলে ঐ এয়ারলাইন খরচ সামলাতে পারবে না। ফলে তারা পরবর্তী ৩ মাসে পর্যায়ক্রমে ১০%–২০% ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে ফেলবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐ এয়ারলাইন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা ১৮% পর্যন্ত এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সংখ্যা ২৬% পর্যন্ত কমাতে পারে। এ খবর প্রকাশিত হলে শুক্রবার সকালেই ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের শেয়ারের দাম ৫.৭% কমে যায়।
স্বল্প খরচের এয়ারলাইন ভিয়েতজেট এয়ার এপ্রিল মাসে মোট ফ্লাইট সংখ্যা ১৮% পর্যন্ত কমাবে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সংখ্যা ২২% কমানো হবে। আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা ১১% কমানো হবে। মূলত খরচ কমাতে ফ্লাইট সংখ্যা কমাচ্ছে ঐ এয়ারলাইন। দেখা যাচ্ছে যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যার তুলনায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সংখ্যা অধিক হারে কমবে। কিন্তু ফ্লাইটসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পরেও কোম্পানির শেয়ারের দাম আগের চেয়ে ০.৪% বেড়ে গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে যে খরচ কমানোর এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোম্পানির জন্য ভালো হতে পারে এমনটাই মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই শেয়ারের দাম একটু বেড়েছে।
বাম্বু এয়ারওয়েজের বর্তমান দৈনিক ফ্লাইট সংখ্যা ৩৬ থেকে কমিয়ে ১৭-তে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সান ফু কোয়াক এয়ারওয়েজের কাছে এখনো এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে। তাই তারা এখনই ফ্লাইট সংখ্যা কমাচ্ছে না। আগের মতোই ফ্লাইট পরিচালনা করতে থাকবে। আর যদি জ্বালানির সংকট চলতেই থাকে তাহলে পরে তারা ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে পারে বা নতুন কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
জ্বালানির দাম বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ভিয়েতনাম সরকার ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরিবেশ সুরক্ষা কর এবং বিশেষ ভোগ কর মওকুফ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে যেমনি জ্বালানির দাম বাড়ছে তেমনি জ্বালানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। জেট ফুয়েল ছাড়া উড়োজাহাজ উড়তে পারে না। তাই এই জ্বালানির দাম বাড়লে এয়ারলাইনের খরচও অনেকটাই বেড়ে যায়। এই কারণে বিশ্বের সকল এয়ারলাইন চাপ সামলাতে না পেরে হয় ফ্লাইট সংখ্যা কমাচ্ছে নয়তো বা ভিন্ন পরিকল্পনা করছে। ভিয়েতনামের এয়ারলাইনগুলোও একই সমস্যায় পড়েছে। তাই তারা ফ্লাইট কমাচ্ছে বা বাতিল করছে।
সূত্র: রয়টার্স