মার্কিন বিমানবন্দরে প্রাইভেট স্ক্রিনার, মাত্র ১০ মিনিটেই চেকিং শেষ
গত ৩০ দিনে সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গড় নিরাপত্তা চেকিং সময় ১০ মিনিটের নিচে ছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, March 27, 2026
ছবি: জেসন হেনরি, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারপোর্ট ‘স্ক্রিনিং পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ফেডারেল ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) এজেন্টদের পরিবর্তে প্রাইভেট নিরাপত্তা কনট্রাক্টর নিয়োগ করায় সেই এয়ারপোর্টগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার লাইনে গড়ে ১০ মিনিটেরও কম সময় অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে, টিএসএ-স্টাফ নিযুক্ত এয়ারপোর্টগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের।
বৃহস্পতিবার ঐ দেশের পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্রাভেল রিপোর্টার গ্যাবে কাস্ত্রো-রুট এই তথ্য জানান।
সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল, কানসাস সিটি ইন্টারন্যাশনাল এবং সারাসোটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এই স্ক্রিনিং পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে। এতে বিমানবন্দরগুলোকে টিএসএ এজেন্টের পরিবর্তে প্রাইভেট স্ক্রিনার নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এই চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সরকারী শাটডাউন চলাকালীনও বেতন পান। অন্যদিকে ৫০ হাজার টিএসএ এজেন্ট ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন।
সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মুখপাত্র ডগ ইয়াকেল বলেন, গত ৩০ দিনে চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ২০ লক্ষেরও বেশি যাত্রীর ব্যাগ ও শরীর পরীক্ষা করেছে। ব্যস্ততম দিনেও নিরাপত্তা চেকিংয়ের জন্য যাত্রীদের গড়ে ১০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি।
জ্যাকসন ওভারস্ট্রিট, সিটি এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, কানসাস সিটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ব্যস্ততম দিনেও ঐ এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় নেওয়া হয়।
সারাসোটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গত ৩০ দিনে প্রায় ৩ লাখ যাত্রীর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের গড়ে ৩ মিনিটের একটু বেশি সময় ধরে পরীক্ষা করা হয়। তবে যারা আগেই কিছু তথ্য জমা দিয়েছে তারা মূলত টিএসএ প্রি-চেক লেনে দাঁড়ান। এদেরকে পরীক্ষা করতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগে।
ঐ এয়ারপোর্টের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) পল হোব্যাক বলেন, “এখন বিশাল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আমাদের সকল চেকপয়েন্ট সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারী শাটডাউনেও কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।”
প্রাইভেট কনট্রাক্টররা টিএসএ এজেন্টদের মতোই প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। কিছু টিএসএ ম্যানেজার বহাল তবিয়তে তাদের তদারকি করছেন। এই প্রাইভেট কনট্রাক্টররা সরকারি শাটডাউনের সময়ও বেতন পাচ্ছেন।
টিএসএ’র অ্যাকটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক) হা ন্যগুইয়েন ম্যাকনিল ২৫ মার্চ কংগ্রেসিয়ান শুনানিতে বলেন, দেশের কিছু বিমানবন্দরে যাত্রীরা নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য আগে যত সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন এখন তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সরকারি শাটডাউন চলার কারণে নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক টিএসএ এজেন্টদের উপস্থিতি কমে গেছে। আগে যেখানে অনুপস্থিতির হার ছিল ৪ শতাংশ এখন তা ৪০ শতাংশেরও বেশি। এর ফলে প্রায় ৫০০ জন এজেন্ট তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাই যাত্রীরা অনেক বেশি সময় ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রী জর্ডান স্টাবস (৩৬) গত সপ্তাহে সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে তার ফ্লাইট ছাড়ার তিন ঘণ্টা আগেই পৌঁছেছিলেন। কারণ তার আশঙ্কা ছিল যে এয়ারপোর্টে অনেক ভিড় হবে। তিনি রিপোর্টার কাস্ত্রো-রুটকে বলেন, “কোনো ব্যস্ততা না দেখে আমি অবাক হই। আমি ভেবেছিলাম যে চরম ভিড় হবে”।
২০ বছরের টুলেন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী স্টেফান লুডক্ট এয়ারপোর্টের এই নয়া বন্দোবস্ত দেখে খুশি হন। তিনি বলেছেন, “আমি আমার শহরের জন্য গর্বিত।”
২০০৪ সালে এয়ারপোর্টে এই প্রাইভেট নিরাপত্তা কনট্রাক্টর নিয়োগের প্রোগ্রাম চালু হয়। তখন এভিয়েশন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন যে ৯/১১ হামলার পর এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তার ভার প্রাইভেট কোম্পানির উপরই পড়বে। সান ফ্রান্সিসকোও ২০০৫ সালে এই প্রোগ্রামে অংশ নেয়।
তবে চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তাকর্মী নিযুক্ত এই বিমানবন্দরগুলো ঐ দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে পড়ে না। কারণ সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পরবর্তী সপ্তাহের জন্য প্রায় ৩,৬০০টি পরিকল্পিত ফ্লাইট রয়েছে। আর নিউ ইয়র্কের কেনেডি এয়ারপোর্টে একই সময়ের জন্য ৪,২০০টি এবং হাটসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে প্রায় ৭,৮০০টি পরিকল্পিত ফ্লাইট রয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী এলেইন ক্লার্ক সারাসোটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কার্যকারিতা প্রশংসা করে বলেন যে প্রাইভেট কনট্রাক্টররা টিএসএ এজেন্টদের বেশি সুবিধাজনক।
সরকারি শাটডাউনের কারণে আরও বেশি বিমানবন্দর এই প্রাইভেট নিরাপত্তা প্রোগ্রামে যোগ দিবে কি-না তা এখনো জানা যায়নি এমনটাই লিখেছেন রিপোর্টার কাস্ত্রো-রুট।