জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, March 31, 2026
ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে এবং মজুদ বাড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে তেল অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও আদতে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
“এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। আমাদের যথেষ্ট জ্বালানি মজুত আছে। আরও সরকারি মজুত বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি," তিনি বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু উৎস থেকে তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখছে যাতে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
“আমরা বিকল্প উৎস থেকে তেল আনার চেষ্টা করছি। এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে একজোট হয়ে কাজ করছে”, তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসে সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে একাধিক জ্বালানির চালান আসার আশা রয়েছে। পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারক এবং চলমান আলোচনাগুলো আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজ করছে।
তেল সংকটের প্রতিবেদন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে কিছু অসাধু ব্যক্তির অবৈধভাবে তেল মজুত করার কারণে। চলমান পরিস্থিতিতে এসকল ঘটনা উপস্থাপনও করা হচ্ছে ভিন্নভাবে।
“কিছু মানুষ জ্বালানি স্টকপাইলিং করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এটি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন”, তিনি বলেন।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির জন্য কিছু আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়। কারণ রাশিয়ার ওপর কিছু আর্থিক বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল কিনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি বা সমন্বয় প্রয়োজন যাতে কোনো আইনগত সমস্যা না হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই বিষয়গুলো সমাধান করতে আলোচনা চালাচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার কাজ চলমান।
ভারতের সঙ্গে ভিসা সমস্যা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত সরকার ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণ নিশ্চিত করেছে।
"বাণিজ্য, ব্যবসা, চিকিৎসা এবং দুই দেশবাসীদের মধ্যে সংযোগের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা উচিত। ভারত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে, আমরা আশাবাদী," শামা বলেন।
তার মতে, লিবিয়া হয়ে এদেশের মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে মানবপাচারকারীরা দুর্বল বা অরক্ষিত মানুষদের শোষণ করছে। বৈধভাবে মানুষ বিদেশ যেতে পারবে। তবে দুর্বল মানুষদের শোষণকারী পাচারকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
"মানুষ বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবে, কিন্তু মানবপাচারকারীরা মানুষের জীবন নিয়ে মুনাফা অর্জন করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক," তিনি বলেন। এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আলোচিত দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।