জ্বালানির দাম বাড়ায় জরুরি ব্যবস্থা নিলো কোরিয়ান এয়ার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, March 31, 2026
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরিয়ান এয়ার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন জানায়, বাড়তি খরচ সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী জেট ফুয়েলের দামও দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এতে কোরিয়ান এয়ারসহ এশিয়ার অন্যান্য এয়ারলাইন যেমন এশিয়ানা এয়ারলাইন্স ও বুসান এয়ারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রফেশনাল সার্ভিসেস ফার্ম পিডব্লিউসি সিঙ্গাপুর-এর বিশেষজ্ঞ মতামতদাতা ট্যান চি সিয়াং বিবিসিকে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক জ্বালানি সংকটে এশিয়ার এয়ারলাইনগুলো একসাথে দুইটি ধাক্কা খেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কোরিয়ান এয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান উ কি-হং কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যয় কমানোর পদক্ষেপগুলো তেলের দামের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে এবং এগুলো শুধু সাময়িক নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত শক্তি বাড়াতেও সহায়তা করবে।
চীন বড় জ্বালানি উৎপাদক হলেও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক। ফলে তাদের এভিয়েশন খাতও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা খেতে চলেছে। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স সম্ভাব্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। অনেক চীনা এয়ারলাইন ইতোমধ্যেই জ্বালানি সারচার্জ বাড়িয়েছে।
জাপানে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ এপ্রিল ও মে মাসের টিকিটে অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ বাড়ায়নি। অন্যদিকে জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের রুট বন্ধ থাকায় চাহিদা বেড়ে কিছু ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে।
ভারতের এভিয়েশন খাতও মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে ঐ দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ২৩ মার্চ ভারত সরকার ভাড়া নির্ধারণের সীমা তুলে দেয় যাতে এয়ারলাইনগুলো জ্বালানির বাড়তি খরচ অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় করতে পারে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে ভাড়া বাড়িয়েছে। তাদের মোট খরচের প্রায় ৩০ শতাংশই জ্বালানি খাতে যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সিঙ্গাপুরে এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা গ্রিন জেট ফুয়েল লেভিও স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় এয়ারলাইনগুলোর কাছে সংকট মোকাবিলার জন্য বিকল্প রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ থাকে। তবে ছোট এয়ারলাইনগুলো, বিশেষ করে পুরনো উড়োজাহাজ পরিচালনাকারীরা, বেশি চাপে পড়ে। অ্যালটন এভিয়েশন কনসালটেন্সির ব্রায়ান টেরি বলেন, “তারা সীমিত বিকল্প নিয়ে এই সংকট সামাল দিচ্ছে।”
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম বাড়ছে। তাই টিকে থাকতে হলে এয়ারলাইনগুলোকে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ