কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, March 25, 2026
ফাইল ছবি
২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ২৬তম দিনে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুয়েতের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জরুরি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হয় এবং দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পূর্বে ফেব্রুয়ারির শেষের আক্রমণের পর কুয়েতের প্রধান এভিয়েশন হাব লক্ষ্য করে এই নিয়ে চতুর্থবার আক্রমণ করা হয়। এর আগে ১৪ মার্চ একাধিক ড্রোন দিয়ে রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, আর ৮ মার্চের হামলায় জ্বালানি ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও আগে একটি যাত্রী টার্মিনালে হামলায় কয়েকজন সামান্য আহত হয় এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সর্বশেষ হামলার পর কুয়েতি সেনাবাহিনী জনগণের উদ্বেগের জবাবে জানায়, “কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।”
জেনারেল স্টাফ আরও জানায়, মানুষ যে ‘বিস্ফোরণের শব্দ’ শুনেছে, সেটা আসলে শত্রুপক্ষের হামলার কারণে সরাসরি কোনো জায়গায় বিস্ফোরণ হওয়ার শব্দ নয়। বরং কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন মিসাইল ডিফেন্স বা এন্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেম) শত্রুর ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। তখনই বিস্ফোরণের মতো আওয়াজ হয়। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বারবার একই ধরনের হামলা হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে যে এটা কোনো আকস্মিক ঘটনা না বরং পরিকল্পিত আক্রমণ। যেসব জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ—যেমন বিমানবন্দর, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, রাডার সিস্টেম সেসব জায়গা লক্ষ্য করেই হামলা করা হচ্ছে যাতে একটি দেশের যাতায়াত ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগে যুদ্ধ সাধারণত সীমান্ত এলাকা বা সামরিক ঘাঁটির মতো নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু এখন সেই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ জায়গায় যেখানে বেসামরিক মানুষ থাকে বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরান, ইসরায়েল এবং লেবাননে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর ওপর হামলা করেছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। একদিকে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন থেকে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আঞ্চলিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে, কারণ লেবানন ইরানের মনোনীত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা শিবানিকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৯ মার্চের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কোনো দেশে অন্য দেশের রাষ্ট্রদূত যদি গুপ্তচরবৃত্তি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে জড়ায় তাহলে সেই দেশ তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, ইকোনমিক টাইমস, নিউজ বাইটস অ্যাপ