ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, এক দিনের রাজকীয় ভ্রমণ গল্প
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, March 25, 2026
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ইতিহাস, স্থাপত্য আর আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখতে চাইলে আপনার গন্তব্য হতে পারে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। সবুজ গাছপালা আর শান্ত পরিবেশে ঘেরা এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়—এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পর্যটকদের মুগ্ধ করে আসছে।
ইতিহাসের গৌরব, ঐতিহ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ
ধারণা করা হয়, মহান সুফি সাধক খান-ই-জাহান এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন ১৫শ শতাব্দীতে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বিশাল স্থাপনার কোনো শিলালিপি নেই, তবুও এর প্রতিটি ইট ও গম্বুজ ইতিহাসের গল্প বলে। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়, যা এই স্থানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
স্থাপত্যের বিস্ময়
মসজিদে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারি সারি স্তম্ভ আর গম্বুজের সমারোহ। ভেতরে রয়েছে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ, যেগুলো সুন্দরভাবে সারিবদ্ধ। ছাদের ওপর ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ, আর চার কোণের মিনারসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি! বিশাল খিলান দরজা আর পুরু দেয়াল মসজিদটিকে দেয় এক রাজকীয় ভাব।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
সকালের কোমল আলো বা বিকেলের সোনালি রোদ—যে সময়ই যান, মসজিদ প্রাঙ্গণে এক প্রশান্তি অনুভব করবেন। পাখির ডাক আর হালকা বাতাসে মনে হবে যেন সময় থমকে গেছে। শুক্রবারে জুমার নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই ঐতিহ্যবাহী স্থান।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সহজেই পৌঁছানো যায় বাগেরহাটে। বাসে গেলে সরাসরি বাগেরহাট নেমে রিকশা বা অটোরিকশায় করে কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাবেন মসজিদে। আর ট্রেনে গেলে খুলনা নেমে সেখান থেকে সড়ক পথে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
বাগেরহাটে কিছু সাধারণ মানের হোটেল থাকলেও ভালো থাকার জন্য খুলনা শহরই বেশি উপযুক্ত। সেখানে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল পাওয়া যায়।
খাবারের ব্যবস্থা
মসজিদের আশেপাশে ছোটখাটো হোটেল ও খাবারের দোকান রয়েছে। স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে সেগুলোতেই যেতে পারেন।
কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান
ভ্রমণটাকে আরও উপভোগ্য করতে ঘুরে দেখতে পারেন - খান জাহান আলীর মাজার, বাগেরহাট জাদুঘর, মোংলা বন্দর, নয় গম্বুজ মসজিদ।
যারা ইতিহাস, স্থাপত্য এবং প্রকৃতির মিশেলে একদিনের ভ্রমণ খুঁজছেন, তাদের জন্য ষাট গম্বুজ মসজিদ একটি পারফেক্ট গন্তব্য। এখানে এলে শুধু একটি মসজিদ নয়—আপনি অনুভব করবেন বাংলাদেশের গৌরবময় অতীত।