প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষার্থীরা পাবেন ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা: নুর
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, March 25, 2026
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা চালু করতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর গণমাধ্যমে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই ঋণটি প্রচলিত জামানত ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
নুর বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী এসব দেশে পড়াশোনার জন্য যায় তারা পড়াশোনা শেষে সেখানেই চাকরি পায়। তারা দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করে। বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠায়। এতে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়। এ কারণেই সরকার ১০ লাখ টাকার এই ঋণ বা ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে আলাদা কোনো জামানত লাগবে না।”
এই ঋণ সরাসরি নগদ টাকা হিসেবে দেওয়া হবে না; বরং ব্যাংক শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয় খরচ যেমন ভিসা, টিকিট বা ফি পরিশোধে সরাসরি সহায়তা করবে। তাই ঋণগ্রহীতারা এই টাকা নিজের ইচ্ছামতো অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। সাধারণ ব্যাংকে যেখানে জামানত ও জটিল প্রক্রিয়া লাগে, এই বিশেষ স্কিমে তা ছাড়াই সহজেই বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। নুর বলেন, “যুদ্ধের কারণে আমাদের শ্রমবাজার বা রেমিট্যান্সে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না, হয়তো সাময়িক প্রভাব থাকতে পারে। বরং যুদ্ধ শেষে পুনর্গঠনের জন্য জনশক্তির চাহিদা বাড়বে, তখন বাংলাদেশ নতুন করে সেই বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।”
সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অভিবাসন খরচের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে খরচ ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে, যাতে বর্তমানে বিভিন্নভাবে ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য খরচে বিদেশে যেতে পারে।
মালয়েশিয়াসহ বন্ধ শ্রমবাজারগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করছি এবং আশা করছি খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে ভালো সাড়া পাব। এর ফলে সেখানে অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় ভাষা শেখার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে নুর তিনি বলেন, ভাষা দক্ষতা থাকলে কর্মীরা বেশি বেতন পায়। এ লক্ষ্যে ‘জাপান সেল’ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সমঝোতা স্মারকের আওতায় এক লাখ কর্মী দ্রুত পাঠানো যায়।
বর্তমানে ইউরোপীয় ভিসার আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ভারতে যেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ইউরোপীয় দেশগুলো বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা চালু করে। কিছু দেশ ইতোমধ্যে এ সেবা দিচ্ছে। বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ঈদের আগে দক্ষিণ কোরিয়াগামী ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোনো সমস্যায় না পড়ে সহজে ও নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন।