লিবিয়ার আটক কেন্দ্র থেকে ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Friday, April 24, 2026
ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়ার বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে বন্দি ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এই প্রবাসীরা বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে দেশে পৌঁছান।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিচালনা করেছে। এতে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ও আইওএম সহায়তা প্রদান করেছে।
জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ এবং আইওএমের কর্মকর্তারা প্রত্যাবর্তনকারীদের স্বাগত জানান।
আইওএম প্রতিটি প্রত্যাবাসিতকে ভ্রমণ ব্যয়, খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনমতো অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাবর্তনকারীদের অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে তাদের কষ্টের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনা
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ এর আগে দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যাবাসনের আগে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের জন্য একটি প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং পরিচালনা করেন। তিনি লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা এবং অগ্রাধিকারমূলক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত আরও আহ্বান জানান, প্রত্যাবর্তনকারীরা নিজ নিজ এলাকায় অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহতা, ঝুঁকি ও বিভিন্ন প্রতিকূল অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম লিবিয়ার আটক কেন্দ্রগুলোতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।