সোশ্যাল মিডিয়ায় হজ ফ্লাইটের লাগেজ মিসহ্যান্ডলিংয়ের অভিযোগ অসত্য: প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Thursday, June 04, 2026
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হজ ফ্লাইটের লাগেজ মিসহ্যান্ডলিং সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রায়ই বিভিন্ন অপতথ্য ছড়ানো হয়। তবে মূলধারার গণমাধ্যম এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের বডি-অন ক্যামেরার ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা যায়, উক্ত হজ ফ্লাইটে আগত মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী কোনো যাত্রী চেক-ইন লাগেজের ভেতরে জমজমের পানি বা যথাযথভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনী সামগ্রী বহন করতে পারেন না। স্ক্যানিংয়ের সময় এ ধরনের সামগ্রী শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করে থাকে। এছাড়া ডিক্লারেশন ছাড়া নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করাও আন্তর্জাতিক নিয়মে নিষিদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনায় কোনো ধরনের লাগেজ মিসহ্যান্ডলিং বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে আমরা ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হতে পারি। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রতিফলিত হয়। তবে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সকল স্তরে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গতকালের ঘটনাটি সম্পর্কে প্রচারিত অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সম্মানিত যাত্রীদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”