ভারতের আকাশপথে ২৪ ঘণ্টায় ৩ দুর্ঘটনা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, February 25, 2026
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের আকাশপথে ৩ টি ভিন্ন দুর্ঘটনায় আকাশযান রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক তদারকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে আঞ্চলিক আকাশযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের চত্রা জেলার সিমারিয়া সীমান্তে রেডবার্ড এয়ারওয়েজ পরিচালিত একটি বিচক্রাফ্ট সি-৯০ মডেলের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জন নিহত হন। রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ঐ আকাশযান। সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড়ানের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ হারায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। পাইলটরা খারাপ আবহাওয়ার কারণে পথ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে কলকাতা এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে গিয়ে আকাশযানটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন সকালে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মায়াবন্দর হেলিপ্যাডে অবতরণের আগে মাত্র ৩০০ মিটার উচ্চতায় ৭ আরোহী নিয়ে সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয় পবন হ্যান্স অপারেটরের এক হেলিকপ্টার। এতে থাকা ৫ যাত্রী ও ২ ক্রু সদস্যকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দামানের রাঙ্গাত থেকে উড়ানের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাইলট পানিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন।
একই দিনে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লাদাখের লেহগামী স্পাইসজেটের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের একটি উড়োজাহাজের দিল্লিতে ফিরে এসে জরুরি অবতরণ করে। স্পাইসজেটের একজন মুখপাত্র গণমাধ্যেমে জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি ফিরে আসে এবং নিরাপদে অবতরণ করে। সব যাত্রীকে নামানো হয়েছে এবং ককপিটে কোনো আগুন লাগার ঝুঁকি পাওয়া যায়নি।
এই নিয়ে এক মাসের মধ্যে ভারতে বেসরকারি এয়ারলাইনের আকাশযানের দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটলো। গত ২৮ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতি শহরের কাছে ভিএসআর ভেঞ্চার্সের এক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারসহ ৫ জন নিহত হন।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটসের সভাপতি ক্যাপ্টেন সি এস রন্ধাওয়া আকাশযান রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক তদারকির দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, কিছু অপারেটরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) জনবল সংকটে ভুগছে এবং অনেক কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। তিনি অবসরপ্রাপ্ত বিমান বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার ডিজিসিএ নিরাপত্তা মান পূরণ না করা পর্যন্ত চারটি ভিএসআর ভেঞ্চার্স পরিচালিত লিয়ারজেট উড়োজাহাজের উড়ান সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। বারামতির দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিরীক্ষায় দেখা যায়, আকাশযানের চলাচলযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনায় অনুমোদিত নিয়ম মানা হয়নি।
ইতিমধ্যেই সংস্থাটি অনিয়মিত অপারেটরদের জন্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। এতে উড়োজাহাজগুলোর বয়স ও রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাসসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইট ডিউটির সময়সীমা লঙ্ঘন বা নিরাপদ সীমার নিচে অবতরণের চেষ্টা করলে পাইলটদের লাইসেন্স পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থগিত করার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ডিজিসিএ সব অনিয়মিত অপারেটরের জন্য নিরাপত্তা র্যাং কিং চালু করার পরিকল্পনা করছে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, জ্বালানি রেকর্ড ও প্রযুক্তিগত লগের ওপর আকস্মিক নিরীক্ষা চালানোর উদ্যোগেরও ঘোষণা দেয়।
সোর্স: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া