ভারতের বিমানবন্দরে রিলস বা ভ্লগ ধারণে কড়াকড়ি, পড়তে পারেন শাস্তির আওতায়
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, June 02, 2026
-প্রতীকী ছবি
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) বিমানবন্দরের সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও ধারণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে ভ্রমণবিষয়ক রিলস, ভ্লগ ও শর্ট ভিডিও তৈরির প্রবণতা বাড়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এসব কনটেন্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি অবকাঠামো বা বিমানবন্দর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকি, বোর্ডিং গেট, রানওয়েতে যাত্রী পরিবহনকারী বাস, বিমান পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং এলাকা, এপ্রনসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত স্থানে পূর্বানুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা যাবে না।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিডিও বা ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করা, জরিমানা, মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা জব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, সংবেদনশীল নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ধারণ বা বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নো-ফ্লাই লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হতে পারে। এর ফলে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বিমান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন যাত্রীরা।
তবে বিমানবন্দরের সাধারণ ও উন্মুক্ত এলাকায় ছবি তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা সংস্থা এবং এয়ারলাইন্সের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
এছাড়া বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র বা বাণিজ্যিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ধারণের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই রিলস বা ভ্লগ ধারণের আগে যাত্রীদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে তারা কোনো সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান করছেন না।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।