শাহজালাল বিমানবন্দরে ইডিডি পুনর্বহাল, ওসমানীতে দ্বিতীয় ইডিএস চালু
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, May 24, 2026
বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর (ইডিডি) পদ্ধতি ব্যবহার করে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং পরিচালনার অনুমোদন পুনর্বহাল হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় বিস্ফোরক শনাক্তকরণ পদ্ধতি (ইডিএস) চালু করা হয়েছে।
আজ রবিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে। ফলে রপ্তানি কার্যক্রমে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং কোনো ধরনের বিলম্ব বা অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষার ঝুঁকি কমবে।
ওসমানী বিমানবন্দরের দ্বিতীয় ইএসডি চালু হওয়ায় স্ক্রিনিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি, বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রপ্তানি কার্গো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে প্রেরণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর ‘থার্ড কান্ট্রি ইইউ এভিয়েশন সিকিউরিটি ভেলিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (আরএ৩) ভেলিডেশন’ অর্জন করে। এর আওতায় রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে ইডিএস, এক্স-রে, ইটিডি ও ইডিডি-এই চারটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে, ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি) সরাসরি ইউকে-গামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরবর্তীতে বেবিচকের উদ্যোগ, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয় এবং ডিএফটি ও ইইউ-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর জন্য ইডিডি-এর অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একইসঙ্গে নতুন নতুন এয়ারলাইনস ‘এয়ার ক্যারিয়ার ক্যারিং এয়ার কারগো এবং মেইল ফ্রম থার্ড কান্ট্রি এয়ারপোর্ট টু ইউরোপিয়ান কান্ট্রিজ (এসিসি৩) ভেলিডেশন’ অর্জনের মাধ্যমে সরাসরি কার্গো পরিবহণে সক্ষমতা অর্জন করবে।
এদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে আরএ৩ ভেলিডেশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে। সিলেট বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ইডিএস, এক্স-রে এবং ইটিডি পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি বেবিচকের উদ্যোগে দ্বিতীয় ইডিএস চালু হওয়ায় বিমানবন্দরটির রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।