২০৩৪ সালে এভিয়েশন হাবে পরিণত হবে বাংলাদেশ: বিএনপি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, February 06, 2026
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা দেশজুড়ে জাতীয় এয়ার কানেক্টিভিটি গ্রিড তৈরি করবে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এ ঘোষণা দেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্বে আয়োজনের সঞ্চালনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা এবং জুলাই জাতীয় সনদ সংযুক্ত আছে।
এভিয়েশন পরিকল্পনায় বিএনপি ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ করে প্রথমে বিভাগীয় শহরগুলোকে আকাশপথে সংযুক্ত করবে এবং ধীরে ধীরে জেলা শহর পর্যন্ত এ পথ বাড়াবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সম্পূর্ণ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাব হিসেবে উন্নত করা হবে। কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে তৈরি করা হবে।
চালু করা হবে জাতীয় লজিস্টিকস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং এবং রুট পরিকল্পনা করা যাবে। বিমানবন্দরে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আরও বলা হয়, দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি এভিয়েশন খাতে টিকেট ব্ল্যাক মার্কেটিং, প্রতারণা এবং অবৈধ তহবিল আত্মসাৎ বন্ধ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা কাঠামো, রুট প্রশাসন ও সেবার মান উন্নয়ন করে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনে পরিণত করা হবে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রবেশ বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য নীতিগত সহায়তাও দেওয়া হবে। এভিয়েশন প্রযুক্তি ও কার্গো খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ করা হবে বলেও জানায় তারেক রহমান। দেশীয় এভিয়েশন খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এমনটাই বলেন তিনি।
দক্ষ কর্মী প্রস্তুত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রমে এভিয়েশন সংক্রান্ত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দলের বিস্তৃত এভিয়েশন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ১৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগের নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।