গ্রিনল্যান্ডে আর্কটিক পর্যটন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, February 06, 2026
কোলাজ: এভিয়েশন এক্সপ্রেস
গ্রিনল্যান্ড এখন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় আর্কটিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বরফে ঢাকা সমুদ্রের খাঁড়ি, গরম ঝরনা এবং বন্যপ্রাণী দেখা উপভোগ করার পাশাপাশি প্রধান মার্কিন এয়ারপোর্টগুলো থেকে সরাসরি ফ্লাইট সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে দেশটিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এয়ারপোর্ট এখন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের সঙ্গে সংযুক্ত। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি, হিউস্টন, সিয়াটল এবং সান ফ্রান্সিসকো এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স গত বছর নিউইয়র্ক থেকে নুকে প্রথমবারের মতো মৌসুমভিত্তিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করে।
২০ হাজারেরও কম বাসিন্দার নুক শহরে গ্রিনল্যান্ড ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্কাইভস, নুক আর্ট মিউজিয়াম এবং কাটুয়াক কালচারাল সেন্টার রয়েছে। শহরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন বুটিক এবং অনন্য স্থাপত্য দেখা যায়। এসব মিলিয়েই বিশ্বের সর্ব উত্তরে অবস্থিত কোনো রাজধানী হিসেবে বিশেষত্ব লাভ করে এ শহর।
গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে। তবু দেশটি বিচিত্র প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ওয়েস্ট গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য স্থান ‘ইলুলিসাট আইসফিয়র্ড’ নামক সমুদ্রের খাঁড়ি। এখানে বিশ্বের দ্রুততম ও সক্রিয় গ্লেসিয়ার সেরমেক কুজাল্লেক দেখা যায়। পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণ এবং হাইকিং সফরে বিশাল বরফচূড়া দেখতে পান।
গ্রীষ্মকালে বরফভরা সমুদ্রে নৌকায় ঘুরে তিমি দেখার জন্যই ডিস্কো বে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে কুজাতারের মতো সবুজ পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে, যা ইউনেসকো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ভৌগোলিক এলাকা। এখানে নরস এবং ইনুইটদের কৃষি, শিকার ও মাছ ধরা প্রথা হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বজায় আছে।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিং যুগের উপনিবেশকারীরা আর্কটিক এলাকায় ৯৮৫-৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে মধ্যযুগীয় কৃষি উপনিবেশ স্থাপন করেন।
ইউনেস্কো জানায়, “এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক-ভৌগোলিক অবস্থা ভেড়া পালন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোমল গ্রীষ্ম এবং দীর্ঘ দিনের আলো উচ্চমানের উল এবং মাংস উৎপাদন করতে সহায়তা করে।”
দক্ষিণাঞ্চলে হাজার বছরেরও আগে আবিষ্কৃত প্রায় ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার গরম পানির ঝরনা রয়েছে। এই ঝরনা ঘিরেই গড়ে উঠেছে ‘উনার্তোক হট স্প্রিংস’ নামক পর্যটন কেন্দ্র। ঝরনার চারপাশে উঁচু উঁচু পাহাড় দেখা যায়। নিকট সমুদ্রে বরফের বিশাল খণ্ডও ভেসে থাকতে দেখা যায়। এই সুন্দর ও ব্যতিক্রমী পরিবেশের কারণে উনার্তোক হট স্প্রিংসকে সবচেয়ে জনপ্রিয় গরম পানির পর্যটন স্থানগুলোর একটি বলা হয়।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে গ্রিনল্যান্ডে বিমান ও ক্রুজ পর্যটকসহ মোট প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার পর্যটক পৌঁছান। ২০২৪-২০২৫ সালে অনুমান করা হয় যে, প্রতি বছর ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক সেখানে যেতে পারেন।
১৭০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের কাকরোতোক শহরে মাত্র ৩ হাজার মানুষ বাস করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও নজরে এনেছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ