৩১ ডিসেম্বর ওমানে অবৈধ শ্রমিকদের শেষ সুযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, December 28, 2025
ছবি: সংগৃহীত
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় দেশটিতে কর্মরত শ্রমিক ও নিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত শ্রমিক স্ট্যাটাস সংশোধন বা অ্যামনেস্টি কর্মসূচির সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ করছে। ফলে জরিমানা ছাড়াই কর্মসংস্থান বৈধ করার সুযোগ আর মাত্র দুই দিন হাতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ জুলাই জনসাধারণ, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের অসংখ্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে কর্মসূচির মূল সময়সীমা ছিল ৩১ জুলাই। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, এটি অ্যামনেস্টি কর্মসূচির চূড়ান্ত বর্ধিত সময়, এর পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, “সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ যাতে তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সময় বাড়ানো হয়েছে।” তবে ৩১ ডিসেম্বরের পর আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এই অ্যামনেস্টি কর্মসূচি চলতি বছরের জানুয়ারিতে চালু হয় এবং মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ৬ কোটি ওমানি রিয়ালের বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা) জরিমানা ও ফি মওকুফের সুবিধা রাখা হয়েছে।
কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সাত বছরের বেশি সময় ধরে অকার্যকর শ্রম কার্ডের জরিমানা বাতিল। ২০১৭ সালের আগে ওমান ত্যাগ করা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দেশে ফেরত পাঠানোর টিকিট খরচ মওকুফ করা হচ্ছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহার না হওয়া শ্রম কার্ড বাতিল করা হবে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া যেসব কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, তাদের কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানো বা অন্য নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক দায় মওকুফ করা হবে। অ্যামনেস্টি চলাকালে শ্রম কার্ড নবায়ন, দুই বছরের ফি পরিশোধ এবং কর্মত্যাগ সংক্রান্ত রিপোর্ট বাতিল করলে সংশ্লিষ্ট জরিমানাও প্রত্যাহার করা হবে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩১ ডিসেম্বরের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আইনসম্মত শ্রমবাজার গড়ে তোলা, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষা এবং শ্রম খাতে নজরদারি জোরদার করা।
অ্যামনেস্টির সুবিধাভোগীদের মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অনুমোদিত সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা, যারা ওমানের প্রবাসী শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন। সূত্র: ওমান শ্রম মন্ত্রণালয়, মাসকাট ডেইলি