৭ মাস পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে বেবিচকের প্রথম গণশুনানি আয়োজিত
মন্ত্রিসভার নির্দেশের ২১৯ দিন পর প্রথম মাসিক গণশুনানি আয়োজন করলো বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, January 29, 2026
ছবি: সংগৃহীত
গত
বছর সরকার সকল মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে মাসিক গণশুনানি আয়োজন করার নির্দেশ দেয়ার
সাত মাস (২১৯ দিন) পেরোনোর পর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথম গণশুনানি আয়োজন করলো।
শুক্রবার
সকাল ১০টায় বিমানবন্দরের ডিপারচার লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত গণশুনানির প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচক সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান।
শুনানি
চলাকালীন গণমাধ্যমকর্মী, যাত্রী ও অন্যান্য অংশীদাররা শৌচাগারের অবনতি, খাবারের
উঁচু দাম, ফ্লাইটের বিলম্ব, লাগেজ পরিচালনায় সমস্যা, এবং তথ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাসহ
নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন।
উল্লেখ্য,
গত বছরের ২০ জুন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নিয়মিত গণশুনানি
আয়োজন করার নির্দেশ জারি করা হয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত
বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই ঐ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সেখানে
মোট ১২১টি প্রস্তাবের মধ্যে ৮টি প্রস্তাবকে অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়। নিয়মিত গণশুনানি আয়োজন করাও এই অগ্রাধিকারপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর
মধ্যেই ছিল।
সকল
সেবা প্রদানকারী মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সাথে এক সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক শেষ করে গণশুনানি
আয়োজন করা কৌশল তৈরি করতে মন্ত্রীপরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে বেবিচক কক্সবাজার
বিমানবন্দরে তার চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রথম গণশুনানি আয়োজন করে। বিগত সাত মাসে
সেখানে কোনো মাসিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
শুনানিতে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওয়েটিং লাউঞ্জের অবস্থা, পার্কিং সুবিধা ও যাত্রী তথ্য
ব্যবস্থার মতো সেবাগত ত্রুটি তুলে ধরা হয়। ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়ে আগেই যাত্রীদের
জানানো এবং অন্যান্য মৌলিক সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে করার জন্য
কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে বালা হয়।
বেবিচকের
জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাওসার মাহমুদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল কার্যকর করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ,
নথিপত্রে এই সেলের কথা উল্লেখ থাকলেও যাত্রীদের জন্য এতোদিন ধরে কার্যকর ছিল না।
অবিলম্বে
সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে বেবিচক আশ্বস্ত করলেও, সমস্যাগুলো
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে।
সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণশুনানি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে। তবে এমন
আয়োজন করতে বেবিচক সাত মাস দেরি করাতে তাদের এই দাবি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
মূল
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতবছরের জুনের নির্দেশনার এক সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রীপরিষদকে গণশুনানি
আয়োজন করার কৌশল চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও কক্সবাজার বিমানবন্দরে আয়োজনে বিলম্ব
করায় এভিয়েশন খাতে বেবিচকের সংস্কার বাস্তবায়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।