আইকাও অডিটের আগে আকাশপথের নিরাপত্তায় জোর: বেবিচক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, October 08, 2026
ছবি: বেবিচক
আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটকে সামনে রেখে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বেবিচকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বেবিচকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে নীতি, কার্যক্রম ও সমন্বয়ের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এনসিএএসসি।
সভার শুরুতে ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা, গাড়ির নিচে স্ক্যানিং ব্যবস্থার (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা এবং ভিআইপি/সিআইপি লাউঞ্জে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক তৈরি এবং বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ও পর্যালোচনায় আসে।
বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও মেইলের ঝুঁকিভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস, বিমানবন্দর এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপ, নিরাপত্তার কারণে যাত্রীর অনুপস্থিতিতে খোলা চেকড ব্যাগেজে সিকিউরিটি স্টিকার লাগানো নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার আওতায় বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়। মিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিআইপি/সিআইপি হিসেবে গণ্য করার প্রসঙ্গও আলোচনায় ছিল।
১৪তম সভার আলোচ্যসূচিতে ভিআইপি/সিআইপি ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে যথাযথ প্রটোকল নিশ্চিত করা এবং অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ভিআইপি/সিআইপি ইমিগ্রেশন জোনে নির্ধারিত প্রটোকল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিয়মবহির্ভূত ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
সভায় একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আইকাও অ্যানেক্স-১৭, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির (এনসিএএসপি) আলোকে বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের দায়িত্ব ও কাজে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আসন্ন আইকাও অডিটের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দর পর্যায়ে বেবিচকের অধীনে সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি নিয়েও আলোচনা হয়। আইকাও অডিট প্রটোকলের ৩.২৭৭ নম্বর প্রশ্নের আলোকে এই সংস্থাগুলোর কাজের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এসওপি তৈরি করে বেবিচকের অনুমোদন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ের সমুদ্রের ওপর স্থাপিত ক্যাট-২ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আইকাওয়ের নিরাপত্তা মান ও নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।