Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

বাংলাদেশের আতিথেয়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয় নিয়ে গ্যারি ফারস্টাডের সাক্ষাৎকার

Dipto Mesbah | Published: Monday, August 17, 2026
বাংলাদেশের আতিথেয়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয় নিয়ে গ্যারি ফারস্টাডের সাক্ষাৎকার

ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু

বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাত যখন প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন অভিজ্ঞ বৈশ্বিক নেতৃত্বের দক্ষতা হয়ে ওঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্টিন ও শেরাটন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার গ্যারি ফারস্টাড রাজধানীর এই দুটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন তার বিপুল অভিজ্ঞতার সম্ভার। এই সাক্ষাৎকারে ফারস্টাড কথা বলেছেন স্থানীয় জনশক্তির সহজাত শক্তিমত্তা, আরও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন খাতের পথ এবং বাংলাদেশে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার আশাবাদ সম্পর্কে।


উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে, ঢাকার স্থানীয় প্রতিভাদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কী, এবং বাংলাদেশের অনন্য সংস্কৃতি তুলে ধরতে আপনি অতিথি অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সাজাচ্ছেন?


বাঙালি মানুষের মধ্যে একধরনের সহজাত উষ্ণতা ও উদারতা রয়েছে, যা আতিথেয়তার জন্য একটি চমৎকার ভিত্তি তৈরি করে। আমাদের লক্ষ্য থেকেছে এই শক্তিগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়া, পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিলাসবহুল সেবার মান যুক্ত করা। আমরা বিশেষভাবে গর্বিত আমাদের গল্প বলার পদ্ধতি নিয়ে। শুধু সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বদলে, আমরা চেষ্টা করি অতিথিদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করতে।


উদাহরণস্বরূপ, আমরা সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী উৎসব থেকে অনুপ্রাণিত স্থানীয় মিষ্টান্ন চালু করেছি, যার সঙ্গে থাকছে সেগুলোর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সম্পর্কে তথ্য। কোনো অভিজ্ঞতার পেছনের গল্প যখন অতিথিরা বুঝতে পারেন, তখন সেই গন্তব্যের সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও গভীর হয়।


ম্যারিয়ট ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক প্রত্যাশা পূরণে আপনার প্রতিষ্ঠানগুলো যেন উপযুক্ত থাকে, সেজন্য কর্মী দক্ষতা উন্নয়নে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?


প্রশিক্ষণ আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে আতিথেয়তা শিল্প যতই বাড়ছে, দক্ষতা ও সেবার ধারাবাহিকতা আরও উন্নত করার বিপুল সুযোগ ততই তৈরি হচ্ছে। আমরা কোচিং, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং স্বীকৃতি কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করি, কারণ আমরা বিশ্বাস করি, ক্ষমতায়িত ও নিবেদিত কর্মীদের হাত ধরেই অসাধারণ আতিথেয়তা সম্ভব হয়।


স্থানীয় স্বাদ তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক গ্রাহকদের উচ্চমানের প্রত্যাশা—বিশেষত প্রিমিয়াম উপকরণের ক্ষেত্রে—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আপনি কীভাবে বজায় রাখেন?


বাংলাদেশের অনেক চমৎকার স্থানীয় পণ্য রয়েছে, এবং যখনই সুযোগ পাই, আমরা আনন্দের সঙ্গে সেগুলো তুলে ধরি। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীরা প্রায়ই বিস্তৃত পরিসরের রন্ধনশৈলীর অভিজ্ঞতা খোঁজেন। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত যত এগিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের প্রিমিয়াম পণ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানো গেলে তা বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।


আমাদের লক্ষ্য সবসময় থাকে অতিথিদের অসাধারণ খাদ্য অভিজ্ঞতা দেওয়া, একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের রন্ধনঐতিহ্যকেই উদযাপন করা।


বৃহত্তর অঞ্চলের দিকে তাকালে, বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রতিষ্ঠিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রধান নিয়ামকগুলো আপনি কী মনে করেন?


পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অব্যবহৃত সম্ভাবনা। এই দেশে আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, অনন্য সংস্কৃতি, অসাধারণ খাবার এবং সত্যিকারের আন্তরিক মানুষ। পর্যটন অবকাঠামো যতই বিকশিত হবে, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ, বিনোদনমূলক সুযোগ, জনপরিসর এবং গন্তব্য বিপণনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।


আজকের অনেক ভ্রমণকারী আসল বা খাঁটি অভিজ্ঞতা খোঁজেন, আর বাংলাদেশের কাছে বলার মতো একটি অনন্য গল্প আছে। পর্যটন-সম্পর্কিত অবকাঠামোতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের কাছে এই অভিজ্ঞতাগুলো আরও সহজলভ্য করে তুলতে পারে।


আপনার দৃষ্টিতে, এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাত ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ?


টেকসই পর্যটন প্রবৃদ্ধি সবসময় সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন সরকার, শিল্প খাত ও বিনিয়োগকারীরা ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করে। বিশ্বজুড়ে সফল পর্যটন গন্তব্যগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা থেকে উপকৃত হয়েছে।


বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, এবং আমি বিশ্বাস করি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং ব্যবসা ও অবকাশ—উভয় ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য একটি আঞ্চলিক গন্তব্য হিসেবে দেশের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ এখনো রয়েছে।


শহরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো শেরাটন ঢাকা। এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অগ্রগতি এবং এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে ম্যারিয়টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?


শেরাটন ঢাকা একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠান, যার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অপরিসীম। অনেক বড় প্রকল্পের মতোই, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে কখনো কখনো অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়।


ম্যারিয়ট সব প্রযোজ্য বিধিবিধান পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আশা করছে যে প্রকল্পটি ভবিষ্যতে তার পূর্ণ রূপ পাবে। আমরা সামনে থাকা সুযোগগুলো নিয়ে আশাবাদী এবং বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্পের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


বর্তমানে আপনার প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূলত কারা আসছেন, এবং ভবিষ্যতের জন্য কোন উদীয়মান বাজারগুলোতে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখছেন?


বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অতিথি আসেন—ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রবাসী এবং যারা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তারাও।


সামনের দিকে তাকালে, বাংলাদেশের ইতিহাস, খাবার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অবকাশযাপনকারীদের কাছে দেশের আবেদন আরও বিস্তৃত করার একটি আকর্ষণীয় সুযোগ রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা যথেষ্ট বড়।


সামনের কয়েক বছরের কথা ভাবলে, সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এই শিল্পের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “পরবর্তী পদক্ষেপ” কী বলে আপনি মনে করেন?


বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। ভ্রমণকারীরা ক্রমেই যা খুঁজছেন—খাঁটি সংস্কৃতি, প্রকৃত আতিথেয়তা, চমৎকার খাবার এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস—তার অনেক কিছুই এই দেশের রয়েছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ হলো, বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের মনে দাগ কাটে এমনভাবে বাংলাদেশের গল্প বলে যাওয়া। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা, ঐতিহাসিক স্থান, জনপরিসর ও পর্যটন অবকাঠামোয় ছোট ছোট উন্নতিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল মূল্য আছে। বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ আতিথেয়তা পেশাদারদের এই দেশে কাজ করার মাধ্যমে, এবং পর্যটনের ধারাবাহিক উন্নয়নে সহায়তা করতে শিল্প নেতৃত্ব ও অংশীজনদের মধ্যে আরও সংলাপের সুযোগ থাকতে পারে।


আপনার সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এখানকার এই যাত্রা নিয়ে শেষ কোনো ভাবনা কি আপনি জানাতে চান?


একটি অগ্রণী আঞ্চলিক গন্তব্য হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণই বাংলাদেশের রয়েছে। এখানকার মানুষ আন্তরিক, সংস্কৃতি প্রাণবন্ত, এবং প্রবৃদ্ধির সুযোগ যথেষ্ট বড়। এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি এবং দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, শেরাটন ঢাকা তথা সামগ্রিকভাবে আতিথেয়তা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উচ্ছ্বসিত।


Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News