বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের এএফসিপির বিনিয়োগ ছাড়াল ১ মিলিয়ন ডলার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, July 13, 2026
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের 'অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন'(এএফসিপি)-এর আওতায় গত ২৫ বছরে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। সর্বশেষ এ তহবিল থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের নতুন অনুদান দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, এএফসিপির অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের ইসলামিক স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, লালবাগ কেল্লার একটি অংশ সংরক্ষণ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ এবং বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প ও প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দলিলকরণেও এ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির উন্নয়ন, যৌথভাবে ইউএস-বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এছাড়া ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন সরকারকে অভিনন্দন জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী নজরুল বর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইব্রেরী অব কংগ্রেস’ কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাস ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।