হজযাত্রা আরও সাশ্রয়ী করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার: ধর্মমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, July 13, 2026
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য হজকে আরও সাশ্রয়ী করতে সরকার একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, উন্নত আবাসন এবং সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১)- এর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজযাত্রীদের নিরাপদ পরিবহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাসের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর তিনটি হজ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে—প্যাকেজ-১, প্যাকেজ-২ এবং প্যাকেজ-৩। এসব প্যাকেজের আওতায় মক্কার মসজিদুল হারামের বাইরের চত্বর থেকে যথাক্রমে ৭০০ মিটার, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং ১ দশমিক ৫ কিলোমিটারের মধ্যে মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্ট সমন্বয়ে একটি হজ মেডিকেল টিম নিয়োজিত ছিল। এ দল বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। এছাড়া সরকার বিনামূল্যে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাও সরবরাহ করেছে।
তিনি বলেন, হজযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ মোবাইল রোমিং সুবিধা এবং হজ প্রিপেইড কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে হজকে নিয়ে আসতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিমানভাড়া কমাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সেবার চার্জ, মোয়াল্লেম ফি এবং মিনা ও আরাফাতের তাঁবুর ব্যয় কমাতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া দেশব্যাপী হজ-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের জন্য ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টার (১৬১৩৬) চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ই-হজ ব্যবস্থার মাধ্যমে হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।