বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Saturday, May 09, 2026
-কোলাজ ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর একজন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।
তাঁর মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি আজ (শনিবার) সকাল ৯:১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এসময় বৃষ্টির বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বৃষ্টির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে কনস্যুলেট জেনারেল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার যাতে সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। আমরা আশাবাদী যে, বৃষ্টির পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।"
এদিকে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে এই খবরে জেলার সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ সকাল থেকেই বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে তার পৈতৃক বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী। একইসাথে চলছে দাফনের প্রস্তুতি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ আসরের নামাজের পর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পর বৃষ্টি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। পরে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিলো, সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে তাঁর মরদেহ পাঠানো হয়।
গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে কনস্যুলেট জেনারেল একযোগে কাজ শুরু করে।
নিহতের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ট্যাম্পায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব সব স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার জোহরের নামাজের পর ট্যাম্পা উপসাগরীয় এলাকার ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীরা, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি — উভয়েরই বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। গত ১৬ এপ্রিল দুজনকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর পরিবার ও সহপাঠীরা তাঁদের নিখোঁজ বলে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পরবর্তী দিনগুলোতে ট্যামপার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুদিন পর কাছাকাছি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে পাওয়া মানবদেহের অবশেষ বৃষ্টির বলে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে দ্বি-পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন।
লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী প্রতি সম্মান জানিয়ে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)।