বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসছে
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Friday, May 08, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর একজন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে। সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে তাঁর মরদেহ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মরদেহটি বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে কনস্যুলেট জেনারেল একযোগে কাজ শুরু করে।
নিহতের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ট্যাম্পায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব সব স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার জোহরের নামাজের পর ট্যাম্পা উপসাগরীয় এলাকার ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীরা, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি — উভয়েরই বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। গত ১৬ এপ্রিল দুজনকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর পরিবার ও সহপাঠীরা তাঁদের নিখোঁজ বলে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পরবর্তী দিনগুলোতে ট্যামপার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুদিন পর কাছাকাছি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে পাওয়া মানবদেহের অবশেষ বৃষ্টির বলে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে দ্বি-পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় এবং শিক্ষা মহলে গভীর শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করবে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)।