Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর পদক্ষেপ, আজ সরেজমিন পরিদর্শনে তিন মন্ত্রী

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর পদক্ষেপ, আজ সরেজমিন পরিদর্শনে তিন মন্ত্রী

-কোলাজ ছবি

দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্প নতুন করে গতি পাচ্ছে। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বিমানবন্দরটি সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিন মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।


বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, "বগুড়া বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীদের পরিদর্শন শেষে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"


বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪.৩ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরটি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়নযোগ্য বিমানঘাঁটি বা স্টলপোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে রয়েছে র্তমানে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ ফুট, যা এটিআর-৭২ (ATR-72) এর মতো যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের জন্য ৬,০০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।


এখানে আছে একটি চারতলা টার্মিনাল ভবন, দোতলা ফায়ার স্টেশন এবং পাওয়ার হাউস। তবে রানওয়ে লাইটিং না থাকায় রাতে কোনো বিমান ওঠানামা করতে পারে না। আর বিদ্যমান অবকাঠামো বড় বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনার উপযুক্ত নয়। ২০০৬ সাল থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ একর জমিতে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে ১০ হাজার ফুটে সম্প্রসারিত হবে। মোট প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৯০০ একর জমির প্রয়োজন পড়বে, যার মধ্যে নতুন করে অধিগ্রহণ করতে হবে প্রায় ৭০০ একর। 


গত ৪ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন যে, বগুড়ায় বিমানবন্দরের পাশাপাশি একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপন করা হবে, যেখানে বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 


বেবিচক বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে। কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পরামর্শক সেবার আওতায় থাকবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, পেভমেন্ট নকশা এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবনের বিস্তারিত ডিজাইন।


এত বিশাল পরিসরে জমি অধিগ্রহণ এই প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পড়বে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের শঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।


প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নিলে শুধু বগুড়া নয়, আশপাশের জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জও সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিপণ্য, বিশেষত সবজি দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির নতুন পথ খুলবে। নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি নানা কারণে এত বছরেও বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন। আজকের তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন সেই নির্দেশনার বাস্তবায়নে প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ।


সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতেে বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকা থেকে আকাশপথে যাতায়াতের সময় লাগবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট।


Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News