বগুড়াকে এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের ঘোষণা, তিন মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Thursday, May 07, 2026
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বগুড়া বিমানবন্দরকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
আজ সকাল সাড়ে দশটায় বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে বগুড়া বিমানবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।"
প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে। তিনি আরও জানান, একইসঙ্গে কার্গো সুবিধা স্থাপন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমি ও কার্গো সুবিধা স্থাপন করা হবে। উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
পরিদর্শনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪.৩ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরটি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়নযোগ্য বিমানঘাঁটি বা স্টলপোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে রয়েছে র্তমানে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ ফুট, যা এটিআর-৭২ (ATR-72) এর মতো যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের জন্য ৬,০০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
বগুড়া বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণ করলে শুধু বগুড়া নয়, আশপাশের জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জও সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিপণ্য, বিশেষত সবজি দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির নতুন পথ খুলবে। নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি নানা কারণে এত বছরেও বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন। আজকের তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন সেই নির্দেশনার বাস্তবায়নে প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতেে বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকা থেকে আকাশপথে যাতায়াতের সময় লাগবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট।