বিয়ের কিছুক্ষণ পরেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, June 01, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় বিয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি। দুর্ঘটনায় তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী বেঁচে গেলেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে বিয়ে শেষে ডেভ ফিজি এবং তাঁর স্ত্রী জেসনি একটি রবিনসন আর-৬৬ হেলিকপ্টারে করে যাত্রা শুরু করেন। তবে জর্জিয়ার ডসনভিলে অবস্থিত তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর কাছেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ডেভ এবং হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। জেসনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
ডেভ নিজেও ডেল্টা এয়ার লাইন্সের একজন পাইলট ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডসনভিলের ‘দ্য রিভিয়ার’ ভেন্যুতে প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতির জন্য বিশেষ বিদায় আয়োজন হিসেবে একটি হেলিকপ্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হেলিকপ্টারটি ডিক্যালব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখান থেকে তাঁদের আটলান্টার ডাউনটাউন এলাকার একটি হোটেলে প্রথম রাত কাটানোর কথা ছিল।
কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনার শিকার হয় হেলিকপ্টারটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আটলান্টা সিটির মালিকানাধীন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমির মধ্যে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে ছিলেন জেসনি। উদ্ধার হওয়ার পর চেতনা ফিরে তিনি দেখেন, তাঁর স্বামী তাঁর বুকের ওপর নিথর হয়ে পড়ে আছেন।
ডেভের বাবা জর্জ বলেন, “জেসনি তাঁর শরীরে রক্ত দেখতে পান। তখন তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। জেসনি একজন নার্স, তাই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ডেভ আর বেঁচে নেই।”
তিনি জানান, জেসনির শরীরে কাটা ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে কোনো হাড় ভাঙেনি।
জর্জের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের রাতে এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল এবং উড্ডয়নের জন্য আবহাওয়া অনুকূল নয় বলে ডেভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ডেল্টা এয়ার লাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে তিনি পাইলটকে জানিয়েছিলেন যে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য, এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা সাধারণত উড়োজাহাজ পরিচালনা করেন না।
তবে দুর্ঘটনার আগে পাইলট ডেভকে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা আরও বেশি উচ্চতায় উড়বেন।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সংস্থাটি এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত জর্জ বলেন, “ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলে অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো—কেন এমন হলো? ঈশ্বর আমাদের একটি নিখুঁত বিয়ের আয়োজন উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো।