বোয়িং ৭৪৭-৮, ৭৮৭-এ কি একই ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়?
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, January 02, 2026
ফাইল ছবি
বোয়িং
৭৪৭-৮ এবং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে একই জিইএনএক্স ইঞ্জিন পরিবারের ভিন্ন সংস্করণ ব্যবহার
করা হয়েছে। তবে প্রতিটি ইঞ্জিন নিজ নিজ উড়োজাহাজের আলাদা অপারেশনাল চাহিদা
অনুযায়ী বিশেষভাবে অপ্টিমাইজ করা হয়।
৭৮৭
ড্রিমলাইনারে ব্যবহৃত হয় জিইএনএক্স ১বি ইঞ্জিন এবং ৭৪৭-৮ এ ব্যবহৃত হচ্ছে
জিইএনএক্স ২বি ইঞ্জিন। জেনারেল ইলেকট্রিক এভিয়েশন জানায়, দুই ইঞ্জিনের হাই
প্রেসার কোর একই এবং প্রায় ৮০ শতাংশ লাইন রিপ্লেসেবল ইউনিটই অভিন্ন। এতে উভয়
মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ করা, যন্ত্রাংশ
মজুত রাখা এবং টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হয়।
জিইএনএক্স
ইঞ্জিন জিই এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া ইঞ্জিন হিসেবে পরিচিত।
একই সঙ্গে এটি ওয়াইডবডি ইঞ্জিন উৎপাদনে কোম্পানিটির সবচেয়ে দ্রুত উৎপাদন
সম্প্রসারণ প্রকল্প। পুরোনো সিএফ৬ ইঞ্জিনের তুলনায় জিইএনএক্স প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি
জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করে।
দুই
উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ব্যবহারের মূল পার্থক্য রয়েছে অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে শক্তি
সরবরাহের পদ্ধতিতে। বোয়িং ৭৮৭ ব্লিডলেস আর্কিটেকচার ব্যবহার করে, যেখানে অধিকাংশ
সিস্টেম বৈদ্যুতিক শক্তিতে চালিত। অন্যদিকে ৭৪৭-৮ ঐতিহ্যবাহী ব্লিড এয়ার সিস্টেম
ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে কেবিন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ইঞ্জিন স্টার্ট করা হয়। এ
কারণে জিইএনএক্স ২বি ইঞ্জিনে অতিরিক্ত ব্লিড এয়ার পোর্ট যুক্ত করা হয়েছে।
আকারের
দিক থেকেও ইঞ্জিন দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ৭৪৭-৮ এর জন্য জিইএনএক্স ২বি
ইঞ্জিনের ফ্যানের ব্যাস ১০৫ ইঞ্চি, যেখানে ৭৮৭ এর জিইএনএক্স ১বি ইঞ্জিনের ফ্যানের
ব্যাস ১১১ ইঞ্চি। উইং ডিজাইন ও গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সের সীমাবদ্ধতার কারণেই এই
পরিবর্তন। জিইএনএক্স ২বি ইঞ্জিন প্রায় ৬৬ হাজার ৫০০ পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপাদন করে,
অন্যদিকে ৭৮৭ এর ইঞ্জিন সংস্করণগুলো সর্বোচ্চ ৭৬ হাজার ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত থ্রাস্ট
দিতে সক্ষম।
৭৪৭-৮
এ চারটি ইঞ্জিন ব্যবহৃত হওয়ায় প্রতিটি ইঞ্জিনকে তুলনামূলকভাবে হালকা ও কম থ্রাস্ট
উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। এ কারণে জিইএনএক্স ২বি ইঞ্জিনে বুস্টার ও লো প্রেসার
টারবাইনের ধাপের সংখ্যা কম রাখা হয়েছে।
জ্বালানি
ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দুই মডেলের উড়োজাহাজের মধ্যেই বড় পার্থক্য দেখা যায়। বোয়িং
৭৮৭ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ গ্যালন জ্বালানি ব্যবহার করে, অন্যদিকে ৭৪৭-৮
এর খরচ প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গ্যালন। ৭৮৭ এর প্রতি ১০০ কিলোমিটারে ২ দশমিক ৩১ লিটার জ্বালানি
লাগে। আর ৭৪৭-৮ এর লাগে ২ দশমিক ৮২ লিটার।
জিইএনএক্স
ইঞ্জিন পরিবার আগের প্রজন্মের তুলনায় উইংয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি সময় অবস্থান করার
জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। কিছু এয়ারলাইন্সে এই ইঞ্জিন ৩০ হাজার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে
কোনো বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে। উভয় মডেলের উড়োজাহাজের ইঞ্জিন
ন্যাসেলে থাকা বিশেষ চেভরন নকশা গরম ও ঠান্ডা বাতাস মিশিয়ে শব্দ দূষণ
উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করে।
অপারেশনাল ব্যয়ের দিক থেকে বোয়িং ৭৮৭ অনেক বেশি সাশ্রয়ী। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় কম হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত ছোট আকারের দুই ইঞ্জিনের উড়োজাহাজকে বেশি পছন্দ করে। এগুলো যাত্রী পূরণ ও পরিচালনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
উৎস: বোয়িং, ইপ্লেনএআই, ইডিসি,
এয়ারওয়েজম্যাগ, এভিয়েটর, জি এ্যারোসপেস এবং অ্যাভিসোমা।