বসন্ত বরণে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগানে দর্শনার্থীর ঢল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, February 15, 2026
ছবি: সংগৃহীত
বসন্তে দেশজুড়ে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে সুনামগঞ্জের মনিগাঁওয়ে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান। রক্তিম ফুলে ছেয়ে যাওয়া এই বাগান দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
তাহিরপুর উপজেলার মনিগাঁও এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে রয়েছে তিন হাজার শিমুল গাছ। ২০০০ সালে তৎকালীন বাধাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এসব গাছ রোপণ করেন। যাদুকাটা নদীর তীর এবং মেঘালয়ের পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ বাগানটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পহেলা বসন্ত উপলক্ষে এখানে আয়োজন করা হয় বসন্ত উৎসব। এতে শাহ আব্দুল করিম ও হাসন রাজার গানের পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। দর্শনার্থীরা লাল ফুলে ঘেরা বাগানে ঘোড়ায় চড়া ও ফটোগ্রাফির সুযোগ উপভোগ করেন।
বাগানের মালিক রাকাব উদ্দিন জানান, সামান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দর্শনার্থীদের জন্য আরও উন্নত সুবিধা প্রয়োজন।
তিনি গণমাধ্যমে বলেন, আগের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল প্রাকৃতিক পরিবেশে বসন্ত উৎসব আয়োজন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি গণমাধ্যমে আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উৎসবের চেতনা বাংলা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দর্শনার্থীরা বাগানের অনন্য পরিবেশের প্রশংসা করলেও বিশ্রামাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান। যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু সম্পন্ন হলে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আবেদন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটনের মৌসুমে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।