সৌদির আইন ভেঙে হুমকিতে পড়ল ২৩,৩১২ প্রবাসী
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, February 15, 2026
ফাইল ছবি
সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৩ হাজার ৩১২ প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। সপ্তাহব্যাপী তল্লাশি অভিযানে ২১ হাজারের বেশি অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর তাদের এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ওয়িজারাতুল দাখিলিয়া) জানায়, আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন প্রবাসীদের মধ্যে ২২ হাজার ৪০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ২৭২ জন নারী। ৫ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পরিচালিত অভিযানের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইতোমধ্যে ১৬ হাজার ১২১ জনকে আটক করা হয়। তাদের নিজ নিজ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ২ হাজার ২৭০ জনকে দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, ১৩ হাজার ২১৩ জন প্রবাসীকে ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বাকিরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
অভিযানে মোট ২১ হাজার ২৯টি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৭৫টি আবাসন সংশ্লিষ্ট আইন, ৪ হাজার ৭৭৮টি সীমান্ত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইন এবং ৩ হাজার ৩৭৬টি শ্রম সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘন করা হয়।
সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ২ হাজার ৩০৭ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ইথিওপীয় এবং ৪৭ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।
আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনিয়মে সহায়তা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন বা আশ্রয় প্রদানে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
ঐ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য। মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ নম্বরে এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে কল করে জনসাধারণকে অনিয়মের তথ্য জানাতে আহ্বান করা হয়।
এই অভিযান বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। ঐ দেশ থেকে প্রাপ্ত প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উৎস।
এছাড়াও সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিবাসন ও শ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করতে এ ধরনের তল্লাশি ভবিষ্যতেও চলবে।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি