মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চার দেশের যৌথ ঘোষণা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, August 27, 2026
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের রিক্রুটিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনগুলো।
চার দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি সংগঠনের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এফডব্লিউসিএমএস (এফডব্লিউসিএমএস) প্ল্যাটফর্মে একটি নির্বাচিত গোষ্ঠীর মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাবিত বা বিদ্যমান চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, তারা ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নিয়োগ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। তবে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা নিয়োগ ব্যবস্থা যেন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে সিন্ডিকেট, একচেটিয়া বা কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম না হয়।
তারা বলেন, কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোতে হাজার হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি যথাযথভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও আইনগতভাবে পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিয়োগের সুযোগে সমান, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার থাকা উচিত।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে অগ্রাধিকারমূলক বা একচেটিয়া প্রবেশাধিকার দেওয়া হলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও নৈতিক নিয়োগের নীতি দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মী উভয়ের জন্য নিয়োগ ব্যয় বাড়ার এবং পছন্দের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এফডব্লিউসিএমএস নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন চার দেশের নেতারা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—কোনো ধরনের নিয়োগ একচেটিয়া বা সিন্ডিকেশন সৃষ্টি না করা, সব যোগ্য ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে ন্যায্য ও স্বচ্ছ আচরণ নিশ্চিত করা এবং একটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ বিতরণ করা।
একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর স্বীকৃত রিক্রুটিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনগুলোর উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয় এবং ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও নয়। বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমান সুযোগ এবং একচেটিয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাদের সম্মিলিত আহ্বান।
বিবৃতিতে নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজের (এনএএফইএ) সভাপতি দিক বাহাদুর খত্রি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজ উল ইসলাম, মিয়ানমার ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ফেডারেশনের (এমওইএএফ) চেয়ারম্যান মিয়ো থান্ট এবং পাকিস্তান ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্রোমোটারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিওইপিএ) চেয়ারম্যান সাইয়েদ রহমত আলী শাহ স্বাক্ষর করেন।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টদের একাংশের মধ্যে ফের ‘সিন্ডিকেট’ গঠনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।