চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স ও ভর্তুকিমূল্যে ব্যাগেজ র্যাপিং সেবা চালু
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, April 21, 2026
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং মাত্র ১০০ টাকায় ব্যাগেজ র্যাপিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।
সোমবার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এ ঘোষণা দেন বিমানবন্দর পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক — অর্থাৎ সপ্তাহের সাত দিন, চব্বিশ ঘণ্টা — পরিচালিত হবে। বিদেশফেরত অসুস্থ প্রবাসী কিংবা মৃত প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই সেবার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নারস কার্ডধারী যাত্রীরা বাণিজ্যিক মূল্যের তুলনায় অনেক কম খরচে পেশাদার ব্যাগেজ র্যাপিং সুবিধা পাবেন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এটিএম মাহাবুব উল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মকর্তারা জানান, শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবহারকারী মোট যাত্রীর প্রায় ৭৩ শতাংশই প্রবাসী শ্রমিক। তাঁদের যাতায়াত আরও সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানবন্দর পরিচালক বলেন, "প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের সেবা দেওয়া কোনো দয়া নয়, এটি তাঁদের প্রাপ্য। আমরা চাই এই বিমানবন্দর তাঁদের জন্য আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক।"
ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্ন ফ্রি ওয়াই-ফাই, মোবাইল চার্জিং স্টেশন, ফ্রি টেলিফোন বুথ, উন্নত নামাজের ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে ৭৫০টি আসনসমৃদ্ধ আধুনিক অপেক্ষাগার, আন্তর্জাতিক মানের স্মোকিং জোন এবং একটি নতুন বোর্ডিং ব্রিজ।
যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং হয়রানি ও খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এপ্রোন এলাকায় বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের সহায়তায় র্যাম্প কার এবং সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ব্র্যাক, প্রত্যাশী ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনসহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা দুস্থ প্রবাসীদের সহায়তায় কাজ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এটিএম মাহাবুব উল করিম বলেন, প্রবাসীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে তাঁরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
সভায় ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক) মোহাম্মদ আতিকুল আলম।
সূত্র: বাসস