Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফের চতুর্থ শিরোপা জয়, হাজারো দর্শকের ঢল

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফের চতুর্থ শিরোপা জয়, হাজারো দর্শকের ঢল

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে শনিবার ১১৭তম আব্দুল জব্বারের বলীখেলার পর্দা নামল কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাঘা শরীফের অনবদ্য জয়ের মধ্য দিয়ে। এটি এই ঐতিহ্যবাহী কুস্তি প্রতিযোগিতায় তাঁর চতুর্থ শিরোপা।


২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল লড়াইয়ে বাঘা শরীফ একই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ রাশেদ বলীকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ঘরে তোলেন। হাজার হাজার দর্শকের উচ্ছ্বসিত করতালির মধ্যে তিনি শিরোপা উত্তোলন করেন। বিজয়ের পর বাঘা শরীফ তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব দেন তাঁর প্রশিক্ষক শাহজালাল বলীকে, যিনি নিজে ১১৪তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।


বিকাল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নিবন্ধিত ১২০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১০৮ জন বলী বা কুস্তিগির অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই প্রতিযোগীরা মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতির, যাদের বয়স ছিল ১০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত। বিকেল থেকে শুরু হওয়া কুস্তি খেলা দেখতে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের রাস্তা দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


সাবেক ওয়ার্ড কর্মকর্তা হেফাজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল পুরো প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি তুলে দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।


এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় মেলা একদিন আগে সমাপ্ত 


বলীখেলার এই আসর ছিল তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও আব্দুল জব্বারের বলীখেলা, যা প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল আয়োজিত হয়ে থাকে। তবে এ বছর আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


সময় কম হলেও মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ী ও দর্শকদের পদচারণায় লালদীঘি ময়দান ও তার আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। কোতোয়ালি মোড় থেকে আন্দরকিল্লা ও সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত বিস্তৃত স্টলগুলোতে ছিল ফুলের ঝাড়ু, হাতপাখা, মাটির তৈজসপত্র, রান্নাঘরের সামগ্রী, শাড়ি, চুড়ি, গহনা, গাছের চারা, মৌসুমি ফল, খেলনা এবং কৃষি সরঞ্জামসহ বিচিত্র সব পণ্যের সমাহার।


শেষ দিনে সকাল থেকেই মেলায় দর্শনার্থীর ঢল নামে। অনেকেই বন্ধের আগেই প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য কিনে নিতে ভিড় জমান। কারিগররা তখনও মাটির তৈরী বিভিন্ন পণ্যে শেষ মুহূর্তের কারুকাজ করছিলেন, আর ক্রেতারা দরদাম করছিলেন। খেলনা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, টম-টম গাড়িসহ শিশুদের খেলনার চাহিদা ভালোই ছিল এবং বন্ধের আগে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। মৃত্তিকাশিল্পী নারায়ণ দাস জানান, হাঁড়ি, কলসি ও সাজসজ্জার মাটির পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।


বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আয়োজন  —জব্বারের বলীখেলা— শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয় — এটি দেশের লোকজ কুস্তির ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। আর এই উপলক্ষে দেশ বিদেশের হাজারো পর্যটক এই সময়ে চট্টগ্রামে ভ্রমণ করে থাকে, যা এই এলকার পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। 


সূত্র: বাসস 

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News