দেশের ৮ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা সরকারের
আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনীতি ও পর্যটন উন্নয়ন জোরদারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে বগুড়া
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, June 16, 2026
অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ বাড়ানো, পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দেশের আটটি পরিত্যক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর আগে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুনরায় চালু করার জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত বিমানবন্দরগুলো হলো—বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী।
এর মধ্যে বগুড়া বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিমান সুবিধায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানে ফ্লাইং একাডেমি, পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় বিমান চলাচল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বগুড়া বিমানবন্দরের নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) যুক্ত করার বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব বিমানবন্দর চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট থেকে কৃষিপণ্য এবং কুটির শিল্পের পণ্য দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও রুশ নাগরিকদের যাতায়াতের কারণে এই বিমানবন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।
এ ছাড়া শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে সিলেট ও মৌলভীবাজারের পর্যটন খাত, বিশেষ করে চা শিল্প ও প্রবাসী যাত্রীদের চলাচলে সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেবিচকের কারিগরি সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই উদ্যোগ দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, বাণিজ্য ও পর্যটন সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ করবে।