ঢাকা-রিয়াদ রুটে টিকিট বিক্রি শুরু করল রিয়াদ এয়ার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, July 09, 2026
সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ার ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়ে এয়ারলাইনটি জানায়, আগামী ৭ আগস্ট থেকে এ রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এয়ারলাইনটি জানায়, তাদের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, রিয়াদ থেকে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে রিয়াদে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।
রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এ সেবার মাধ্যমে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ব্যবসা ও অবকাশ—উভয় ধরনের ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এভিয়েশন বাজারে সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ রুট চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন এ প্রিমিয়াম সেবা দুই দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে এয়ারলাইনটি।
এয়ারলাইনটির ভাষ্য, সৌদি আরবের রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রিয়াদ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য ব্যবসায়িক সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের লাইফস্টাইল ইভেন্ট, বিনোদন, উচ্চশিক্ষা এবং দেশটির বিকাশমান অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারদের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন।
টিকিট রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে কেনা যাবে।
যাত্রীরা এখন থেকেই রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’-এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন। এয়ারলাইনটির দাবি, সদস্যরা প্রথম ফ্লাইট থেকেই বিশেষ অফার, বিনামূল্যে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই এবং বিভিন্ন পুরস্কারের সুবিধা পাবেন।
রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, এ রুটে পরিচালিত বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি ভ্রমণ শ্রেণি থাকবে।
বিজনেস এলিট ও বিজনেস শ্রেণিতে ১-২-১ বিন্যাসের সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড আসন, এসি পাওয়ার, ইউএসবি-সি ও ইউএসবি-এ চার্জিং সুবিধা, ব্লুটুথ অডিও, হেডফোন জ্যাক এবং হেডরেস্ট-সমন্বিত হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড সিস্টেম থাকবে।
প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ২-৩-২ বিন্যাসের আসন, প্রাইভেসি হেডরেস্ট উইং, অতিরিক্ত স্টোরেজ এবং চারটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট থাকবে। ইকোনমি শ্রেণিতে থাকবে ৩-৩-৩ বিন্যাসের আসন, ছয় দিক থেকে সমন্বয়যোগ্য হেডরেস্ট এবং দুটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট। সব শ্রেণির প্রতিটি আসনেই ব্লুটুথ অডিও ও হেডফোন জ্যাক থাকবে।
এ ছাড়া যাত্রীরা প্যানাসোনিক অ্যাভিওনিক্সের অ্যাস্ট্রোভা ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে ৫০০টির বেশি চলচ্চিত্র, ৬০০টির বেশি টেলিভিশন সিরিজ এবং এক হাজারের বেশি অডিও অ্যালবাম ও প্লেলিস্ট উপভোগ করতে পারবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব যাত্রীকে সৌদি-নির্মিত কায়ানি ইন-ফ্লাইট পণ্য দেওয়া হবে এবং শিশুদের জন্য থাকবে বিশেষ ডিজনি অ্যামেনিটি কিট। এছাড়া প্রিমিয়াম ডাইনিং, জন হর্সফলের বিলাসবহুল বিছানার সরঞ্জাম এবং কাস্টমাইজড ওয়েলনেস সুবিধা থাকবে। বিজনেস এলিট ও বিজনেস শ্রেণির যাত্রীরা কায়ানি লাউঞ্জওয়্যার এবং প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীরা লাউঞ্জওয়্যার টপ পাবেন।
রিয়াদ এয়ার জানায়, ‘স্ফিয়ার’ লয়্যালটি প্রোগ্রামের নামটি আরবি শব্দ ‘সফির’ (রাষ্ট্রদূত) এবং ইংরেজি শব্দ ‘স্ফিয়ার’ (পরিধি) থেকে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির সুবিধার মধ্যে রয়েছে মেয়াদহীন পয়েন্ট, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পয়েন্ট শেয়ার করার সুযোগ, বিনামূল্যে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই, গেমিফায়েড চ্যালেঞ্জ ও লিডারবোর্ড, নতুন রুটে আগাম প্রবেশাধিকার এবং ‘দ্য ফাউন্ডার্স ক্লাব’-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ।