ঢাকায় এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৪৫ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, March 06, 2026
ফাইল ছবি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটময় পরিস্থিতির কারণে ৭টি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এক সপ্তাহে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের আকাশযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেইদিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ঐদিনই সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১ মার্চ ৪০টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
৬ মার্চ মধ্যরাতের পর থেকে আরও ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েতের জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং শারজাহভিত্তিক এয়ার আরাবিয়ার ৬টি ফ্লাইট।
এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফ্লাইদুবাই ২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাতিল করেছে ২টি ফ্লাইট।
বাহরাইনভিত্তিক গালফ এয়ার ২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। দুবাইভিত্তিক এমিরেটসও ৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব এয়ারলাইন বাংলাদেশ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন ঐ অঞ্চল।
আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত যাত্রীরা। আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেক যাত্রী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কেউ কেউ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এয়ারলাইনগুলো আকাশসীমা মুক্ত হলে যাত্রীদের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ভ্রমণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এখনো কোনো পরিবর্তন দেখাতে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা কবে থেকে শুরু হবে তা জানা যায়নি।