Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

কীভাবে ৩৭৮ সঙ্কটাপন্ন নাগরিককে উদ্ধার করলো ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স?

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Thursday, March 05, 2026
কীভাবে ৩৭৮ সঙ্কটাপন্ন নাগরিককে উদ্ধার করলো ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স?

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে দুবাইয়ে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ৩৭৮ জন বাংলাদেশি যাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা বিমানবন্দর) পৌঁছান।


উদ্বেগ এবং আশা মিশ্রিত চিত্তে প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় পরিবারসহ শত শত মানুষ ভোর থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক যাত্রী আটকা পড়ে যান ঐ অঞ্চলে।


পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হয় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় যখন ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট এয়ারবাস ৩৩০ মডেলের ঐ উড়োজাহাজ ৩৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের পরিবেশ তৎক্ষণাৎ উত্তেজনা থেকে আনন্দে পরিণত হয়। পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়া মানুষদের চোখে প্রশান্তি ও আনন্দের অশ্রু দেখা যায়।


ফিরে আসা যাত্রীরা তাদের কষ্টের অভিজ্ঞতা জানান। একজন যাত্রী বলেন, “কাল আমি বিমানবন্দরে আসার সময় আমার টিকিট বাতিল হয়েছিল। কোম্পানি পরে সেটি আপডেট করেছিল। যদি আমাদের সঙ্গে কিছু হয়ে যেত, আমাদের অবস্থা কী হত? এই কারণেই তো ফ্লাইট বন্ধ ছিল।” তিনি ফিরে আসার জন্য ৯০ হাজার টাকা দিয়ে নতুন টিকিট কিনেন।


আরেকজন যাত্রী বলেন, যাদের ফ্লাইট আগে বাতিল হয়েছিল, তারা এখন আসছেন। অনেক মানুষ আসছেন। ২৮ ও ২৯ মার্চের ফ্লাইটগুলো এখন ৫ ও ৭ মার্চে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের বেশি কিছু ঘটেনি। দূর থেকে আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের আশেপাশের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।


বিশেষ ফ্লাইটটি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে দুবাইয়ে আটকা পড়া ২৭ জন ক্রু সদস্যকেও ফিরিয়ে এনেছে। প্রবাসীরা ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সকে তাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


এক কৃতজ্ঞ যাত্রী বলেন, “আমাদের নতুন জীবন দেওয়ার জন্য নিজের এবং অন্যান্য প্রবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ইউ-এস বাংলা।”


মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাখ্যা দিতে এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান যে এভিয়েশন মূলত একটি সেবামূলক ব্যবসা।


তিনি বলেন, আমাদের এখানে দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে থাকা যাত্রীরা ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতি বিশ্বাস রাখে। সেই বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দুবাই এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুইটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাই।


কামরুল আরও জানান, ৪ মার্চ আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার জন্য একটি এয়ারবাস ৩৩০ মডেলের উড়োজাহাজ দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের সঙ্গে অনিশ্চয়তায় থাকা জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭ ক্রু সদস্যকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।


নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ফলে এদেশে গত ছয় দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইনের ২১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বৃহস্পতিবারই ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এমন চরম সংকটের মধ্যেও ইউ-এস বাংলার বিশেষ ফ্লাইটটি শত শত পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।


কামরুল বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি সংখ্যক আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা আবুধাবি ও শারজাহ থেকে আরও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করার অনুমতি পেতে আবেদন করছি।”

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News