দুপুর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৪ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, March 05, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ থেকে দুপুর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা বিমানবন্দর) যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
আজ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাওসার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
১০টি ফ্লাইট ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ার আরাবিয়া। এখনো পর্যন্ত এই এয়ারলাইনই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ ও কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে জাজিরা এয়ারওয়েজ ও এমিরেটসও ৪টি করে ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, গালফ এয়ার বাতিল করেছে ২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। দুবাই ও দোহাগামী সন্ধ্যার ফ্লাইটগুলো বাতিল করার কারণে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। সকাল থেকেই বিমানবন্দরে আসা অনেক যাত্রী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অনেক যাত্রী আগেই ফ্লাইট বাতিলের খবর পেলেও ফ্লাইট চালু হওয়ার আশায় বিমানবন্দরে এসেছিলেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন যে তাদের ফ্লাইট এখনও স্থগিত রয়েছে। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ভ্রমণে জটিলতা বেড়েছে।
এদিকে আজ বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ফ্লাইট ছেড়ে যাবে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ফিরে আসার কথা ঐ ফ্লাইটের। যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা শীঘ্রই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আজ সকাল ৭টায় বাংলাদেশ বিমানের এক ফ্লাইট দুবাই থেকে এসে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এতে ২৭ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ৩৭৮ জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া গত বুধবার বিকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও দুবাইয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ছয় দিনে দুইশোরও বেশি মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ২১০টি ফ্লাইট এবং চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরও ৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনগুলো আকাশসীমার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। জরুরি ভিত্তিতে যেসব যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে তাদের বিশেষ উদ্ধার ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দিয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তবে চলমান এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী, প্রবাসী শ্রমিক এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী অনেক যাত্রী এখনও ভোগান্তিতেই আছেন।