ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর আশা: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, November 06, 2026
-মন্ত্রণালয়
আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রথম কয়েকটি ফ্লাইট চালুর আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন বলে বাসস-এর খবরে জানানো হয়েছে।
সভাটি হয় মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে। মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসে প্রথম দুই-তিনটি ফ্লাইটে বিনা খরচে কর্মী পাঠিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে অন্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানো চলবে।
মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাঁদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর খরচ বহন করবে। প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবসা কয়েকটি নির্দিষ্ট এজেন্সির হাতে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যেন কাজের সুযোগ পায়, সে জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে বলে তিনি আশা করছেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন থাকতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে মন্ত্রণালয়ে অঙ্গীকারনামাও দিতে হবে।
বিদেশে যাওয়ার পর কর্মীদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনা আছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মীরা যেন প্রয়োজনীয় সেবা পান এবং হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেডিকেল পরীক্ষার ফি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি নেওয়া যাবে না। বাসসের খবর অনুযায়ী, নির্ধারিত ফির বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে লাইসেন্স বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এই খাতকে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে হবে। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর কথাও ভাবতে বলেন।
মন্ত্রী কর্মীদের গন্তব্য দেশের আইনকানুন মেনে চলতে সচেতন করার কথাও বলেন। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ও কাজের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।