যুদ্ধে আক্রান্ত আমিরাত থেকে ফিরলেন ১৮৯ বাংলাদেশি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, March 05, 2026
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া ১৮৯ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের সঙ্গে ফেরত আসা নাগরিকদের আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখা যায়।
ফ্লাইটে ২৮ জন ক্রু সদস্যও ছিলেন। ইরানের উপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকদিন ধরে উদ্বেগে ছিলেন প্রবাসীদের পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাকে ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যার ফলে সেখানে থাকা অনেক বাংলাদেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
ফিরে আসা যাত্রীদের একজন আকরাম। তার ৭০ বছর বয়সী মা আজিজুন্নাহার নিজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে তাকে চুম্বন করে বলেন, “আমার একটাই সোনা-মানিক।”
ফিরে আসা যাত্রীরা সংঘাতের সময়কার আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার কথা জানান। এক যাত্রী বলেন, “আকাশপথে যাত্রা খুব ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। পুরো সময়ই আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম।” আরেকজন বলেন, “এক সময় মনে হয়েছিল যে হয়তো আর দেশে ফিরতে পারব না।”
তারা জানান, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুবাইয়ে একটি হামলার স্থানের প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক প্রবাসী পরিস্থিতিকে ‘খুব খারাপ ও ভীতিকর’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে অধিকাংশ যাত্রীই জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এবং মার্কিন কর্মীদের অবস্থান করা হোটেলগুলো। সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি কোনো হামলা হয়নি।
এক যাত্রী বলেন, “দুই জায়গায় হামলা হয়েছে। এ্ যেখানে আমেরিকান ঘাঁটি রয়েছে সেখানে। দুই, সেসব হোটেলগুলোতে আমেরিকানরা ছিল সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সাধারণ মানুষের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।”
ফিরে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, চার-পাঁচ দিন আগের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা থাকলেও দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য অঞ্চলে এখন আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে আরও আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের আরেকটি বিশেষ ফ্লাইট আবুধাবির উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে।
ফিরে আসা যাত্রীরা দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য এমন বিশেষ ফ্লাইট চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই উত্তেজনার প্রভাবের মধ্যে পড়ে। কয়েক রাতের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে বিমানবন্দরে অনেক পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।