৬ দিনে ঢাকা থেকে ২১০ ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, March 05, 2026
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা বিমানবন্দর) থেকে মোট ২১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আজ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাওসার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকেও অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনগুলো সমস্যার মুখোমুখি হয়।
সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ২ মার্চ। ঐদিন ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর আগে ১ মার্চ ৪০টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। শুরুতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৪ মার্চ বাতিল হয় আরও ২৮টি ফ্লাইট।
এদিকে আজ দুপুর পর্যন্ত ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েতের জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং শারজাহ থেকে পরিচালিত এয়ার আরাবিয়ার ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এমিরেটসের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাহরাইনের গালফ এয়ারের ২টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রভাবিত প্রধান এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এয়ার আরাবিয়া, এমিরেটস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার এবং ফ্লাইদুবাই। এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাদের আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিট পুনঃনির্ধারণ বা অর্থ ফেরত সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলে বিকল্প রুটে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে এয়ারলাইনগুলো।