এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালের রায়, আটাব নির্বাচনে মনোনয়ন অবৈধ, ভোটার তালিকাও বাতিল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Wednesday, July 22, 2026
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল আটাবের নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ১২ জুন ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য এ এস এম কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৪/২০২৬ ও ৫/২০২৬-এর রায় দেন।
রায়ে সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সদ্য সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সদ্য সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়ার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ অনুযায়ী প্রশাসনিক আদেশে কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল হওয়াকে মেয়াদ পূর্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কমিটি পূর্ণ ২৪ মাস দায়িত্ব পালন করেনি, তাই বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৮(৪) বিধি প্রয়োগ করে সাবেক নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার আইনগত ভিত্তি ছিল না।
রায়ে আপিল বোর্ডের কার্যক্রমেও গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শুনানিতে উপস্থিত না থেকেও একজন সদস্য পরবর্তী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া আদেশের কপিতে সদস্যদের পদবি ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলোকচিত্র পর্যালোচনায় এসব বিষয় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল "He who hears must decide" নীতির উল্লেখ করে বলেন, যিনি শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন, সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারও তাঁরই। শুনানিতে অংশ না নিয়ে আদেশে স্বাক্ষর করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থী।
ভোটার তালিকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের মতে, বাতিল লাইসেন্সধারী ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এসব কারণেই ১২ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা করেছে এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের পর আটাবের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।