এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআরকে প্রতিস্থাপন করল বোয়িং ৭৫৭
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, January 01, 2026
ছবি: সংগৃহীত।
কিংবদন্তি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৫৭ (757)। প্রায় চার দশক ধরে
সেবা দিয়ে গেছে। বর্তমানে উড়োজাহাজটি অবসরের পথে। নীরবে কিন্তু দ্রুত এর জায়গা দখল
করে নিয়েছে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর (A321XLR)।
বোয়িং ৭৫৭-২০০ বাজারে আসে ১৯৮২ সালে। একই সময়ে বোয়িং ৭৬৭ ও বাজারে
আসে। শক্তিশালী ইঞ্জিন ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ৭৫৭ পরিচিত ছিল । উড়োজাহাজটি
প্রায় ২০০ যাত্রী বহন করত এবং একটানা প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মাইল পর্যন্ত উড়তে পারত।
এর সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার পাউন্ড।
এই বিমানে ব্যবহৃত হতো রোলস-রয়েস অথবা প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি
ইঞ্জিন। প্রতিটি ইঞ্জিন প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড থ্রাস্ট দিত। এর
থ্রাস্ট-টু-ওয়েট অনুপাত ছিল অনেক বেশি, যেটাকে অনেক সময় সামরিক জেটের সঙ্গেও তুলনা
করা হতো। এই শক্তির কারণেই ৭৫৭ কঠিন রুট ও চ্যালেঞ্জিং রানওয়েতে সহজে চলাচল করতে
পারত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। পরিবেশ ও আওয়াজ সংক্রান্ত
বিধিনিষেধ কঠোর হয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিমানটিও হয়ে পড়েছে অনেক পুরোনো। ফলে
৭৫৭ পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। বোয়িং এই বিমানের কোনো সরাসরি বিকল্প
আনেনি, ফলে বাজারে দীর্ঘদিন একটি শূন্যতা তৈরি হয়।
এই শূন্যতা পূরণে এয়ারবাস তৈরি করে এ৩২১এক্সএলআর। এটি ১৯৮০-এর দশকের ৭৫৭-এর তুলনায় প্রতি আসনে প্রায় ৩০
শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে। এই আকাশযানে শক্তির চেয়ে দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিন ও উন্নত বায়ুগতিগত নকশার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন
করা হয়েছে। বিমানটি জার্মানির হামবুর্গে একটি বিশেষ উৎপাদন লাইনে তৈরি হচ্ছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তাদের আসন্ন এ৩২১এক্সএলআর বহরের জন্য প্র্যাট
অ্যান্ড হুইটনির জিটিএফ (GTF) ইঞ্জিন বেছে নিয়েছে। এয়ারবাসের এই আকাশযান বোয়িংয়ের
পুরোনো ৭৫৭-২০০ প্রতিস্থাপন করবে। ওয়াশিংটন ডালেস ও নিউয়ার্ক হাব থেকে পরিচালিত
ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক রুটে এখন থেকে ৭৫৭-২০০ এর দেখা নাও মিলতে পারে।
আইসল্যান্ডএয়ার দীর্ঘদিন ৭৫৭ বহরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন
থেকেই তারা ভবিষ্যৎ ফ্লাইট পরিচালনায় এ৩২১এক্সএলআরকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনছে। রেইক্যাভিক হাব থেকে তাদের
অনেক ফ্লাইটে এই আকাশযান ব্যবহৃত হবে। একই কৌশল অবলম্বন করছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স।
কারণ ইউরোপের এমন কিছু শহর আছে যেগুলো ওয়াইডবডির আকাশযান দিয়ে ভরিয়ে ফেলা কঠিন
হলেও অন্তহীন ফ্লাইটের চাহিদা রয়েছে।
এ৩২১এক্সএলআর-এ যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যও বেড়েছে। এতে রয়েছে ‘এয়ারস্পেস’
কেবিন ডিজাইন, বড় ওভারহেড বিন, কাঁধের জায়গা বাড়াতে নতুন সাইডওয়াল এবং এলইডি মুড
লাইটিং। ৭৫৭-এর কেবিন চাপ ৮ হাজার হলেও এ৩২১এক্সএলআরে তা ৬ হাজার ফুটে নামানো
হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নত শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা ও উচ্চ গতির ওয়াই-ফাই।
তবে বোয়িং ৭৫৭ এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিমানটি এখনো
নিউয়ার্ক–লিমা, কেফলাভিক–সিয়াটল এবং শিকাগো–শ্যামননের মতো দীর্ঘ রুটে চলাচল করছে।
এসব রুটে এর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে বয়স বাড়লেও বোয়িং ৭৫৭ এখনো কার্যকর ও সক্ষম।
সূত্র: সিম্পল ফ্লাইং