Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

উড়োজাহাজ শিল্পের নামকরণ:

‘এয়ারলাইনস’, ‘এয়ারওয়েজ’ ও ‘এয়ার’-এর আধুনিক এয়ারলাইনসের বিবর্তন ইতিহাস

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Thursday, January 01, 2026
‘এয়ারলাইনস’, ‘এয়ারওয়েজ’ ও ‘এয়ার’-এর  আধুনিক এয়ারলাইনসের বিবর্তন  ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের এভিয়েশন শিল্পে ব্যবহৃত এয়ারলাইনস, এয়ারওয়েজ ও এয়ার—এই নামগুলো কোনো প্রযুক্তিগত পার্থক্যের কারণে নয়; বরং এর শিকড় লুকিয়ে আছে সমুদ্রযাত্রা ও রেলপথের ঐতিহাসিক নামকরণে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধার জন্যই অধিকাংশ বিমান সংস্থা ইংরেজি শব্দ বেছে নিয়েছে—এমনটাই উঠে এসেছে এভিয়েশনভিত্তিক গবেষণায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন’ (line) শব্দটির উৎপত্তি সমুদ্রপথে। একসময় নির্দিষ্ট দুই বন্দরের মধ্যকার নৌপথকে বলা হতো লাইন, আর সে পথে নিয়মিত চলাচলকারী জাহাজগুলো পরিচিত ছিল লাইনার নামে। এভাবেই Black Ball Line ও American President Lines–এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ‘ওশান লাইনার’ ধারণাটি জনপ্রিয় হয়।


পরবর্তীতে যখন বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়, তখন নবগঠিত বিমান সংস্থাগুলো সমুদ্র ও রেল পরিবহনের ঐতিহ্য থেকে নাম ধার নেয়। ফলে জন্ম নেয় Air Lines বা পরবর্তী একশব্দে প্রচলিত Airlines। যুক্তরাষ্ট্রের Eastern Air Lines ও Delta Air Lines তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ডেল্টা এখনো দুই শব্দের বানান ব্যবহার করে, যা তাদের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম এয়ারলাইনের পরিচয় বহন করে।


অন্যদিকে কিছু সংস্থা রেলপথের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের নামের সঙ্গে যুক্ত করে Airways। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত Imperial Airways কিংবা ১৯২৬ সালের Western Canadian Airways—এসব নাম ছিল মূলত বিপণন কৌশল, কোনো পরিচালনাগত পার্থক্যের প্রতিফলন নয়। ‘এয়ারলাইনস’ শব্দটি যেমন সমুদ্রযাত্রার রাজকীয় দিনগুলোর স্মৃতি জাগায়, তেমনি ‘এয়ারওয়েজ’ শব্দটি আকাশপথে সড়কের কল্পনা তৈরি করে।


বর্তমানে British Airways ও Qatar Airways—এই নাম দুটি সবচেয়ে পরিচিত হলেও, ‘এয়ারওয়েজ’ কেবল ব্রিটিশ ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও US Airways (যা ২০১০ সালে American Airlines–এর সঙ্গে একীভূত হয়), পাশাপাশি JetBlue Airways ও Breeze Airways–এর মতো সংস্থাগুলো এই নাম ব্যবহার করেছে।


বিশ্বের অধিকাংশ বড় ক্যারিয়ার ব্যবহার করে Airlines—যেমন American Airlines, United Airlines, Southwest Airlines, Singapore Airlines, Turkish Airlines, Vietnam Airlines ও Spirit Airlines। আর British Airways, Qatar Airways, South African Airways, Etihad Airways ও Cyprus Airways রয়েছে ‘এয়ারওয়েজ’ তালিকায়।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘Air Line’ (দুই শব্দ) বানানটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জাপানের Japan Air Lines পর্যন্ত পরে নাম বদলে Japan Airlines করে। মজার বিষয় হলো, সমুদ্রপথে এখনো ocean liner আলাদা শব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, কিন্তু আকাশপথে airliner এক শব্দে পরিণত হয়েছে।


অনেক বিমান সংস্থা সরাসরি Air শব্দটি ব্যবহার করে, যা সড়ক বা সমুদ্র নয়—বরং আকাশকে পরিচালন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে। ইংরেজি ‘Air’ শব্দটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হওয়ায় বহু অ-ইংরেজিভাষী দেশও এটি গ্রহণ করেছে—যেমন Air France ও AirAsia।


তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিছু সংস্থা নিজেদের মাতৃভাষার শব্দ ধরে রেখেছে। যেমন আইরিশ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা Aer Lingus—যার অর্থ এয়ার ফ্লিট। স্পেনের Vueling অর্থ ফ্লাইট। আবার Ryanair নামের শেষে যুক্ত করেছে ইংরেজি ‘air’।

ইংরেজি ছাড়া ব্যবহৃত অন্যান্য শব্দের মধ্যে রয়েছে—Aer (আইরিশ), Luft (জার্মান), Aerolíneas (স্প্যানিশ), Linhas Aéreas (পর্তুগিজ) এবং Aerobus।


এছাড়া Lufthansa, Aeroflot, Avianca, Aeroméxico ও KLM (Koninklijke Luchtvaart Maatschappij)–এর মতো পুরোনো রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ারগুলো এখনো ঐতিহ্যবাহী নাম ধরে রেখেছে, যা তাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইংরেজি এখন আন্তর্জাতিক এভিয়েশনের অবিসংবাদিত ভাষা, তাই নতুন সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে। আর যারা নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করছে, তারা মূলত সেই সময়ের প্রতিষ্ঠান, যখন ইংরেজির বৈশ্বিক আধিপত্য এখনকার মতো প্রতিষ্ঠিত ছিল না।


ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নতুন পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা প্রায়ই পুরোনো মাধ্যম থেকে নামকরণ ধার করে। যেমন মহাকাশযানে ব্যবহৃত হয় নৌবাহিনীর পরিভাষা—‘ক্যাপ্টেন’, ‘ব্রিজ’, এমনকি USS নামকরণও। ঠিক তেমনি এভিয়েশন শিল্পও সমুদ্র ও রেলপথের ঐতিহ্য থেকে নিজের ভাষা ও পরিচয় তৈরি করেছে।


সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মত, ‘এয়ারলাইনস’, ‘এয়ারওয়েজ’ বা ‘এয়ার’—এই তিনটির মধ্যে কোনো প্রযুক্তিগত পার্থক্য নেই। এটি পুরোপুরি একটি বিপণন ও ব্র্যান্ডিং সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও পরিচিতি।সূত্র: সিম্পল ফ্লাইং

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News