ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: দ্বিতীয় মরদেহ বৃষ্টির, দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
ছবি: কোলাজ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা এক ফেসবুক বার্তায় এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ১ মে ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগ বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এদিকে একই ঘটনায় নিহত অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। মরদেহটি ৪ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে, ৩০ এপ্রিল টাম্পা শহরে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ‘ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়া’ মসজিদে বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে স্মরণ করা হয়।
জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নিহতের স্বজন, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
— ঘটনার ধারাবাহিকতা —
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল লিমনকে সর্বশেষ তার ক্যাম্পাস-বহির্ভূত বাসস্থানে দেখা যায়। একই দিন প্রায় এক ঘণ্টা পরে আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একটি বিজ্ঞান ভবনে দেখা যায়। পরদিন ১৭ এপ্রিল একজন পারিবারিক বন্ধু উভয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করেন।
২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আবুগার্বিয়া নামে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদিন পর, ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয়ে সম্ভাব্য মানবদেহের অবশেষ পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া অবশেষ বৃষ্টির কিনা — তা নিশ্চিত করা হলো।