ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে
সিনিয়র প্রতিবেদক
| Published: Sunday, May 03, 2026
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ মে সন্ধ্যায় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মরদেহটি দুবাই হয়ে ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মরদেহ দেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারক করেন মিয়ামিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরিন এবং কনসাল থোয়িং এ। অরল্যান্ডো বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁরা প্রত্যাবাসনের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
গত ২৫ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিহতের পরিবার, সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, টাম্পায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততার সঙ্গে স্থানীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এর আগে, ৩০ এপ্রিল টাম্পা শহরে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ‘ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়া’ মসজিদে বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে স্মরণ করা হয়।
জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নিহতের স্বজন, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
— ঘটনার ধারাবাহিকতা —
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল লিমনকে সর্বশেষ তার ক্যাম্পাস-বহির্ভূত বাসস্থানে দেখা যায়। একই দিন প্রায় এক ঘণ্টা পরে আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একটি বিজ্ঞান ভবনে দেখা যায়। পরদিন ১৭ এপ্রিল একজন পারিবারিক বন্ধু উভয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করেন।
২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আবুগার্বিয়া নামে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদিন পর, ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয়ে সম্ভাব্য মানবদেহের অবশেষ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১ মে ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগ বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
৩ মে (রবিবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা এক ফেসবুক পোস্টে জানান নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, ৬ মে দুপুর ২টায় টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ামি কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।