ভ্রমণের ডাকে রাঙ্গামাটি
গাংচিল আইল্যান্ড কাপ্তাই লেকের বুকে নিঃশব্দ প্রকৃতির স্বর্গ
ফাইল ছবি
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের মাঝখানে, কর্ণফুলী ও মাইনি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত গাংচিল আইল্যান্ড একটি অনন্য অফ-বিট পর্যটন ও ক্যাম্পিং গন্তব্য। মূলত কাপ্তাই লেকের বুকে গড়ে ওঠা এই দ্বীপটি চারদিকে সবুজ পাহাড়, নীল জলরাশি আর নিস্তব্ধ পরিবেশে ঘেরা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চাইলে গাংচিল আইল্যান্ড হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে নৌপথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দ্বীপটির অবস্থান। এখান থেকে অদূরেই আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে ভারতের মিজোরাম রাজ্য। সম্প্রতি চালু হওয়া এই ক্যাম্পিং সাইট ইতোমধ্যে প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
গাংচিল আইল্যান্ডে যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকার সায়েদাবাদ বা কমলাপুর বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি রাঙ্গামাটিগামী বাস পাওয়া যায়। নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং এসি বাসে ভাড়া পড়ে ১১০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ঢাকার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আনুমানিক ৭–৮ ঘণ্টা।
রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে মাইনি রুটের লঞ্চে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়ায় কাট্টলি বাজার পৌঁছানো যায়। এতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। দ্রুত যেতে চাইলে ফিসারি ঘাট থেকে স্পিড বোটে যাত্রা করা যায়, যেখানে ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ৬৫০ টাকা এবং সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো।
কাট্টলি বাজারে পৌঁছে আলাদা করে ট্রলার ভাড়া করতে হয় গাংচিল আইল্যান্ডে যাওয়ার জন্য। ট্রলার ভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা এবং যাত্রা সময় মাত্র ২০–৩০ মিনিট।
প্রতিদিন রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে সকাল ৭টা, ১০টা, দুপুর ১২টা ও বিকেল ২টায় মাইনি অভিমুখে লঞ্চ ছাড়ে।
কোথায় থাকবেন
গাংচিল আইল্যান্ডে থাকার জন্য রয়েছে ক্যাম্পিং সুবিধা। পর্যটকরা চাইলে নিজের তাঁবু সঙ্গে আনতে পারেন অথবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে তাঁবু স্থাপন করিয়ে নিতে পারেন। একটি তাঁবুতে সাধারণত দুইজন শেয়ারিং ভিত্তিতে থাকতে পারেন। একা থাকতে চাইলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য।
এ ছাড়া দ্বীপজুড়ে বিশ্রামের জন্য ঝুলন্ত হ্যামক, গাছের ওপর নির্মিত মাচাং এবং খোলা জায়গায় বসার ব্যবস্থা রয়েছে, যা থাকার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
খাবারের ব্যবস্থা
গাংচিল আইল্যান্ডের ৯৯৯ টাকার প্যাকেজে খাবারের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রথম দিনের দুপুরে ভাত, ডাল, কাপ্তাই লেকের মাছ, আলু ভর্তা, মাছের ভর্তা ও সালাদ পরিবেশন করা হয়। বিকেলে থাকে মুড়ি ভর্তা ও চা। রাতের খাবারে থাকে হাঁস বা দেশি মুরগির মাংস, ভাত, ডাল ও সালাদ।
দ্বিতীয় দিনের সকালের নাস্তায় থাকে পরোটা, ডিম ভাজি, ডাল ভাজি ও ডিম খিচুড়ি। মোট চার বেলার খাবার এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত।
প্যাকেজ মূল্য ও বুকিং
বর্তমানে গাংচিল আইল্যান্ডে ভ্রমণের জন্য একটিমাত্র প্যাকেজ চালু রয়েছে। জনপ্রতি প্যাকেজ মূল্য ৯৯৯ টাকা। বুকিং নিশ্চিত করতে অগ্রিম ৫০০ টাকা প্রদান করতে হয়, যা অফেরতযোগ্য। ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কমপক্ষে ৫–৬ জনের গ্রুপে যাওয়াই উত্তম।
যাত্রার আগে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
গাংচিল আইল্যান্ডে মাদকদ্রব্য বহন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে যেকোনো রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।